বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি এই নয়নাভিরাম বালুচরের ড্রোন শট ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় কয়েকগুণ বেড়েছে। কেবল গোপালগঞ্জ নয়, পার্শ্ববর্তী নড়াইল, বাগেরহাট, মাগুরা ও ফরিদপুর থেকেও প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে ছুটে আসছেন।
এই চরের প্রধান আকর্ষণ হলো জোয়ার-ভাটার খেলা। জোয়ারের সময় পুরো চরটি পানিতে তলিয়ে গেলেও ভাটার সময় বুক চিরে জেগে ওঠে ধবধবে সাদা বালুর এক বিশাল দ্বীপ। প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন শহর ও গ্রামের ব্যস্ততা ফেলে মানুষ এখানে ভিড় করছেন।
সরেজমিনে চরমাঠলা খেয়াঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে করে শত শত মানুষ আসছেন। কেউ বালুচরে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলায় মেতেছেন, কেউ আড্ডা আর গানে মগ্ন। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা মানুষগুলো মেতেছেন সেলফি আর ভিডিও করার উল্লাসে। মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকার বিনিময়ে নৌকায় চড়ে পুরো চর এলাকা ঘুরে দেখার সুযোগ মিলছে, যা পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে।
নড়াইলের লোহাগড়া থেকে আসা দর্শনার্থী চঞ্চল মাহমুদ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “মেয়ের আবদারে এখানে আসা। স্বচ্ছ জলরাশির মাঝে এমন সুন্দর চর সত্যিই মনমুগ্ধকর। মনে হচ্ছে সমুদ্রের পাড়েই আছি।”
এই পর্যটনকে কেন্দ্র করে নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি ও শিশুদের খেলনার দোকান। এতে স্থানীয় গ্রামবাসীর জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নৌকার মালিক ও মাঝিরাও পর্যটকদের পারাপার করে প্রতিদিন ভালো আয় করছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ফয়েজ আহম্মেদ ও বাসিন্দা মাজাহার শেখ জানান, গোপালগঞ্জে মানসম্মত বিনোদন স্পটের দীর্ঘদিনের অভাব এই চরটি পূরণ করেছে। এটি সুপরিকল্পিতভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে জেলার অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৌশিক আহম্মেদ বলেন, “মধুমতী নদীর চরে অসংখ্য মানুষের আগমনের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জোয়ার-ভাটার কারণে পানির স্তর হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকায় দর্শনার্থীদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। দর্শনার্থীরা যেন নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...