বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এলজিইডি বা সংশ্লিষ্ট বিভাগের আওতায় গুয়াধানা ব্রিজ থেকে শুরু করে জ্ঞান ডাক্তারের ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে কাজের একটি নির্দিষ্ট অংশ সম্পন্ন করার পর হঠাৎ করেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত ও খুঁড়ে রাখা অংশে যানবাহন চলাচল আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় ও গভীর গর্ত। বিশেষ করে বেদগ্রাম রেলক্রসিং, টাবুরিয়া ঘাটা, রঘুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা এবং মন্ডল মার্কেটের সামনের অংশে সড়কের কঙ্কালসার অবস্থা ভেসে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়। ফলে চালক ও পথচারীদের পক্ষে কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল রাস্তা, তা অনুধাবন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন কর্মস্থল, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও ব্যবসা-বাণিজ্যের তাগিদে রঘুনাথপুর এলাকার হাজার হাজার মানুষ এই সড়কটি ব্যবহার করেন। কিন্তু ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে সামান্য পথ পাড়ি দিতেই এখন অতিরিক্ত সময় অপচয় হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত বাড়ছে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
রঘুনাথপুর এলাকার এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনেক বছর ধরে আমরা এই সড়কের কারণে অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছি। রাস্তার বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন বুক ধড়ফড়ানি নিয়ে চলাচল করতে হয়। দ্রুত এটি পুরোপুরি সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।”
স্থানীয় ইজিবাইক, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকেরা জানান, সড়কের বিভিন্ন স্থানে গভীর খাদ তৈরি হওয়ায় যানবাহনের যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের দৈনন্দিন রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবহন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় আলোস্বল্পতার কারণে এই সড়কে চলাচল করা যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর তীব্র অভিযোগ, সড়কটির এই জরাজীর্ণ অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি অবগত থাকলেও স্থায়ী বা টেকসই সমাধানের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তারা অনতিবিলম্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া সংস্কারকাজ পুনরায় শুরু করে দ্রুত সড়কটি সম্পূর্ণ মেরামতের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বিবেচনা করে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। আর কোনো বড় দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই টেকসইভাবে সড়কটি সংস্কার করে জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি এলাকা সচেতন মহলের।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...