Logo Logo

নোয়াখালীতে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার


Splash Image

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম খোরশেদ আলম। তিনি হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গতকাল শনিবার (১৩ জুন) রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) টি.এম. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে প্রত্যাহারের এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে জাহাজমারা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের মেসে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। কিশোরী জানায়, তার মা ও ভাই ওই তদন্তকেন্দ্রের মেসে রান্নার কাজ করতেন। সেই সুবাদে সেও মাঝে মধ্যে সেখানে যাতায়াত করত। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় তাকে বাসার তিনতলায় ডেকে নিয়ে ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া ও বিছানা গুছিয়ে রাখার কথা বলতেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ কিশোরীর। সে বাধা দিতে চাইলে তাকে ও তার মাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। পাশাপাশি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা হাতে দিয়ে ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করতেন ওই কর্মকর্তা।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ভুক্তভোগী কিশোরী পুরো বিষয়টি তার মাকে জানায়। পরে তার মা হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তখন ঘটনার বিস্তারিত লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযোগ দায়েরের পর অভিযুক্ত কর্মকর্তার পক্ষ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এরপর থেকে চরম আতঙ্কে গত প্রায় চার মাস ধরে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম। পাল্টা দাবি করে তিনি বলেন, এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) বদলি করায় সে ক্ষুব্ধ হয়ে মেসের কাজের মেয়েকে দিয়ে একটি ভুয়া ভিডিও তৈরি করেছে। তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এ ধরনের কোনো অনৈতিক কাজের সাথে আমি জড়িত নই।"

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে পরিদর্শক খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উত্থাপিত হতে দেখা যায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পরই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ওই তদন্তকেন্দ্র থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টি.এম. মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি জেলার অন্য এক সংবাদকর্মীকে জানিয়েছেন, এর আগেও এই সংক্রান্ত একটি মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তখন সার্কেলের এএসপিকে দিয়ে একটি তদন্ত করা হলে অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জনস্বার্থে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পুনরায় খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...