বিজ্ঞাপন
গতকাল সোমবার (১৫ জুন) জেলা প্রশাসন, গোপালগঞ্জের আয়োজনে এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘স্বচ্ছতা’ সম্মেলন কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ-উজ-জামান সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নতুন প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একটি সুস্থ ও আসক্তিমুক্ত সমাজ গঠনে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, বরং এটি জাতীয় উন্নয়ন, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি। এই সংকট মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তরুণদের মধ্যে প্রতিরোধমূলক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
এই আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রকিবুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন রশিদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেজাওয়ান কবির এবং সহকারী কমিশনার এ কে এম ফয়জুল বারী।
এছাড়াও সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস এবং গোপালগঞ্জ প্রিন্ট মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মূল আলোচনা সভা শেষে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অবদান যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা তামাক ও নিকোটিনমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বক্তারা পরিশেষে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন, গণসচেতনতা ও সর্বস্তরের মানুষের সম্পৃক্ততাই তামাকমুক্ত সমাজ গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...