অর্থ আত্মসাতের মূলহোতা পলাতক ক্যাশিয়ার অমিত সাহা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম।
তিনি জানান, ঘটনার দিন রোববার ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মালিক ইমন সাহা ছয়জনকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে একই দিন রাত ১০টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের কলেজ গেট এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কবিরহাট উপজেলার নূরসোনাপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৯), একই উপজেলার কালুয়া দিঘিরপাড় এলাকার শরিফ উল্যার ছেলে ইমাম হোসেন (২৪) এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আনোয়ার আহমেদের ছেলে নজরুল ইসলাম (২১)।
মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বসুরহাট বাজারের এস বি কমিউনিকেশন নামের পরিবেশক প্রতিষ্ঠানে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন অমিত সাহা (৩৩)। তিনি ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগদান করেন। সম্প্রতি তার আচরণ ও কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
গত রোববার (১৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে অমিত সাহা অফিসে অনুপস্থিত থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন কর্মকর্তাকে তার বাসায় পাঠানো হলে তিনি দ্রুত অফিসে আসবেন বলে জানান। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কর্মস্থলে না ফেরায় পুনরায় তার বাসায় খোঁজ নেওয়া হয়। এ সময় দেখা যায়, বাসাটি তালাবদ্ধ এবং তিনি সেখানে অবস্থান করছেন না।
এতে সন্দেহের সৃষ্টি হলে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ক্যাশ ভল্ট ও হিসাবপত্র যাচাই করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ভল্টে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার তিনটি পৃথক ক্যাশ চালানের মাধ্যমে যথাক্রমে ২০ লাখ টাকা, ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা তিন কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের তথ্য নথিভুক্ত করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা ওই অর্থ গ্রহণ করেননি। ঘটনার পর থেকেই অমিত সাহা পলাতক রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইমন সাহা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিত প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভল্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি আত্মসাৎ হওয়া অর্থ দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. নুরুল হাকীম বলেন, এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...