ছবিতে নিহত প্রবাসী আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার।
বিজ্ঞাপন
নিহত আনোয়ার উপজেলার নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের কেরামত আলী বেপারী বাড়ির মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে প্রবাসী ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন আনোয়ার। পরে দুপুরের দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আনোয়ার প্রায় নয় বছর ধরে কুয়েতে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি দুম্বা পালন করতেন। প্রবাসে থাকাকালে তিনি কষ্টার্জিত সব টাকা স্ত্রী আকলিমা আক্তারের কাছে পাঠাতেন। সেই অর্থ দিয়ে স্ত্রী তার নামে জমিও ক্রয় করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ছয় মাস আগে দুই সন্তানের জননী আকলিমা আক্তার (৩৪) স্বামীর দূর সম্পর্কের এক ভাগনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং ওই যুবককে বিয়ে করেন। কাকতালীয়ভাবে ওই যুবকের নামও আনোয়ার।
এদিকে ঘটনা জানার পর প্রায় ৯-১০ দিন আগে কুয়েত থেকে দেশে ফেরেন প্রবাসী আনোয়ার। দেশে ফিরে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। মূলত দুই ছেলের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তিনি স্ত্রীকে ক্ষমা করে পুনরায় ঘরে তুলে নিতে চেয়েছিলেন। তবে একপর্যায়ে আকলিমা তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি, গত শনিবার আকলিমা তার স্বামীর কাছে আইনি তালাকের নোটিশ পাঠান। এই নোটিশ পাওয়ার পর আনোয়ার মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন এবং তীব্র অভিমান ও ক্ষোভ থেকে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এই অকাল মৃত্যুর জন্য আকলিমাকে দায়ী করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...