Logo Logo

গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঔষধিগুণসম্পন্ন রসালো ফল কালোজাম


Splash Image

একসময় গ্রামবাংলার রাস্তার ধারে, খেলার মাঠে, বাড়ির আঙিনায় ও পুকুরপাড়ে প্রচুর কালোজাম গাছ দেখা যেত। বর্ষা ঋতুর আগমন ঘটলেই গাছভর্তি পাকা জামের গাঢ় কালো রঙে মুখর হয়ে উঠত গ্রামীণ জনপদ। তবে সময়ের বিবর্তনে সেই চিরচেনা পরিচিত দৃশ্য এখন অনেকটাই বিরল হয়ে পড়েছে।


বিজ্ঞাপন


গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে দেশীয় কালোজাম গাছের সংখ্যা। ফলে স্থানীয় বাজারেও এই মৌসুমি ফলের সরবরাহ উল্লেখ্যযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাজারে সংকটের কারণে বর্তমানে প্রতি কেজি কালোজাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, কয়েক দশক আগেও গ্রামাঞ্চলে কালোজাম ছিল অত্যন্ত সহজলভ্য একটি ফল। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে শিশু-কিশোররা দলবেঁধে গাছে উঠে জাম পেড়ে খেত, আবার অনেকেই ঝুড়ি ভরে তা সংগ্রহ করতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত নগরায়ণ, বসতভিটা সম্প্রসারণ, পরিকল্পনাহীন বৃক্ষনিধন এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় কালোজাম গাছ প্রকৃতি থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। কাঠের প্রয়োজনে বা জায়গা খালি করার নামে ফলদ এই গাছটি কাটার প্রবণতা বাড়লেও নতুন করে রোপণের হার একেবারেই নগণ্য।

কৃষিবিদেরা বলছেন, কালোজাম শুধু একটি সুস্বাদু ফলই নয়, এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও অনন্য ঔষধিগুণসম্পন্ন। ফলটিতে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান মানুষের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে কালোজামের বীজ শুকিয়ে তৈরি চূর্ণ বা ওষুধ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে দারুণ উপকারী বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানেও দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত ও প্রচলিত রয়েছে।

এ ছাড়া কালোজামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, আয়রন, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হজমশক্তি উন্নত করতে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সরাসরি সহায়তা করে। রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ, কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণ ও ত্বকের উজ্জ্বলতা রক্ষাতেও এই ফলের কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। এতে ক্যালরির পরিমাণ কম এবং খাদ্যআঁশ বা ফাইবারের আধিক্য থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি বেশ উপকারী।

তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, যেকোনো ফলের মতো কালোজামও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত মাত্রায় কালোজাম খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পেটে অস্বস্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পুষ্টিগুণ পেতে এটি পরিমাপমতো গ্রহণ করাই শ্রেয়।

পরিবেশবিদদের মতে, দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য এবং গ্রামীণ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কালোজাম গাছ সংরক্ষণ এবং সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় নতুন করে এই গাছ রোপণের সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় একসময়ের জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী এই ফলটি আগামী নতুন প্রজন্মের কাছে কেবলই গল্পের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...