বিজ্ঞাপন
সমাজে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুস শহীদ ছবর আলী তালুকদার। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন এমদাদুর রহমান হিরন ও খন্দকার ইনসান আহমদ মনির।
সমাবেশে প্রধান আলোচক ও অতিথিরা মাদকের সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে বলেন, মাদক একটি জাতির মেধা, মনন ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দেয়। একজন ব্যক্তি মাদকে আসক্ত হলে শুধু তার জীবন নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবার ও সমাজও। তাই মাদকবিরোধী আন্দোলনকে একটি সর্বজনীন সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বন্দে আলী বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। মাদক সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য প্রশাসনকে জানাতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান বলেন, “মাদক আজ সমাজের অন্যতম বড় অভিশাপ। যুবসমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।”
এছাড়া বক্তব্য দেন সামাজিক সংগঠন উত্তর কামলাবাজের সভাপতি এমদাদুর রহমান হিরন, জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জালাল উদ্দিন ফারুকী, কালিপুর নেছারিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা নুরুল হক, জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আক্কাস মোরাদ এবং সাচনাবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সালিশ ব্যক্তিত্ব খুর্শেদ আলম।
বক্তারা বলেন, মাদক প্রতিরোধে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল জামালগঞ্জের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, অভিভাবক এবং বিপুল সংখ্যক তরুণ-যুবক।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘মাদকমুক্ত জামালগঞ্জ’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে মাদকের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবনের পথে পরিচালিত করতে এবং মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।
স্থানীয় জনগণ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত এমন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের দাবি জানান। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...