বিজ্ঞাপন
জাদুঘরের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশের লাল ইটের পথের দুই পাশে শোভা পাচ্ছে ফলজ গাছগাছালি। প্রবেশপথের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে ‘গণতন্ত্রের পথে দীর্ঘ যাত্রা’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রদর্শনী, যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাকে ক্রমানুসারে উপস্থাপন করা হয়েছে। মূল ফটকের দক্ষিণ পাশে সাদা মার্বেল পাথরে নির্মিত হয়েছে বৃত্তাকার স্মৃতিস্তম্ভ ‘জুলাই মেমোরিয়াল’, যার গায়ে খোদাই করা রয়েছে আন্দোলনে শহীদদের নাম। এর ভেতরের অংশটি তৈরি করা হয়েছে প্রতীকী কবরস্থানের আদলে।
খোলা প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে স্থান পেয়েছে আন্দোলনের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর ভাস্কর্য। রিকশায় গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির প্রতীকী রূপ, সাঁজোয়া যানে ঝুলন্ত আন্দোলনকারী এবং সাইকেল নিয়ে মিছিলে নামা শিক্ষার্থীর প্রতিরূপ দর্শনার্থীদের আবেগাচ্ছন্ন করে তোলে। এ ছাড়া পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, গুমের চিত্র, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং নারী আন্দোলনকারীদের সাহসিকতার স্মরণে নির্মিত আলাদা ভাস্কর্য রয়েছে। জাদুঘরের দক্ষিণ প্রান্তে বহুল আলোচিত ‘আয়নাঘর’-এর আদলে তৈরি একটি প্রতীকী কক্ষে প্রদর্শন করা হয়েছে কথিত গোপন বন্দিশালার চিত্র।
দোতলা মূল ভবনের নিচতলায় সংরক্ষণ করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দলিল, আলোকচিত্র, প্রামাণ্য চিত্র ও সাবেক বাসভবনে ব্যবহৃত বস্তুসামগ্রী। একটি বিশালাকার কক্ষে স্থাপিত গোলক আকৃতির ডিজিটাল ডিসপ্লেতে ঘুরেফিরে দেখানো হচ্ছে আন্দোলনের স্মৃতিচিত্র। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক বৈঠককক্ষ বা ‘কল রুম’টি বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আন্দোলনের সময় কক্ষটির যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা অক্ষত রাখতে পুরো মেঝে কাচ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে; দর্শনার্থীরা ওই কাচের ওপর দিয়েই হেঁটে ধ্বংসাবশেষ পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
ভবনের দ্বিতীয় তলায় রাখা হয়েছে শত শত শহীদের ব্যবহৃত রক্তমাখা পোশাক, বই-খাতা, ক্রীড়া সামগ্রীসহ ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন, যার মধ্যে শহীদ আবু ইসাহাকের রক্তভেজা পোশাক অন্যতম। এই তলায় আলোকচিত্র, ভিডিও ও শিল্পের মাধ্যমে আন্দোলনের দিনভিত্তিক সময়রেখা (টাইমলাইন) তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ‘ইমার্সিভ প্রজেক্ট’ কক্ষ, যেখানে ৩৬০ ডিগ্রি প্রযুক্তির মাধ্যমে দর্শনার্থীরা আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহের এক বাস্তবসম্মত অনুভূতি পাবেন। অন্যান্য কক্ষগুলোতে মিছিল, নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, সূচিকর্ম, ডিজিটাল পোস্টার ও শিল্পকর্মের মাধ্যমে আন্দোলনের নানা অধ্যায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
প্রতিদিন তিনটি নির্ধারিত স্লটে প্রধান ভবনটি পরিদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম স্লট সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা, দ্বিতীয় স্লট দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা এবং তৃতীয় স্লট বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালু থাকবে। ভবন পরিদর্শনের পর দর্শনার্থীরা প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থান, পুকুরপাড় ও ক্যাফেটেরিয়ায় সময় কাটাতে পারবেন। টিকিটমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২০ টাকা। দর্শনার্থীরা অনলাইনে কিংবা জাদুঘরের নিজস্ব কাউন্টার থেকে সরাসরি এই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...