Logo Logo

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে গোবিপ্রবিতে নিম্নমানের খাবার নিয়ে সংঘর্ষ


Splash Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ফিস্টে নিম্নমানের খাবার বিতরণকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সদস্য সচিব ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে, তবে তিনি ওই দাবি অস্বীকার করেছেন।


বিজ্ঞাপন


গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস হলের অফিস কক্ষের সামনে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে শহীদ তিতুমীর, স্বাধীনতা, বনলতা, অপরাজিতা ও বিজয় দিবস হলে শিক্ষার্থীদের জন্য ফিস্টের আয়োজন করা হয়। তবে খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়া এবং পচা ডিম সরবরাহ করায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে শহীদ তিতুমীর হলের একদল শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করার উদ্যোগ নেয়। তারা স্বাধীনতা দিবস হলের শিক্ষার্থীদেরও এই কর্মসূচিতে যুক্ত করতে সেখানে গেলে হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাবিবুর রহমান স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্টের কক্ষে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে পরিবেশ শান্ত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে সরে যান।

হামলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান বলেন, আমি একজনের জন্য খাবারের প্যাকেট নিতে নিচে নেমেছিলাম। ওই সময় তিতুমীর হল থেকে আসা একদল শিক্ষার্থী স্বাধীনতা দিবস হলের গেটে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। আমি এর প্রতিবাদ জানালে কয়েকজনের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। পরে হলের অফিস কক্ষের সামনে তারা আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ শিপলুসহ বেশ কয়েকজন ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে হামলার দায় অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া মাহমুদ শিপলু বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোনো হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, বরং পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করেছি। হলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।

ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, হাতাহাতির সময় আমি ও আমার অফিস সহকারী নামাজে ছিলাম। পরে এসে জানতে পারি সামান্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে তিতুমীর হলের প্রভোস্ট নাসির উদ্দিন জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। টোকেন বাবদ নেওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং আগামী সোমবার পুনরায় ফিস্টের আয়োজন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এস এম আহসান জানান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমানের ওপর হামলার সংবাদ তিনি পেয়েছেন এবং প্রক্টর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত স্পষ্ট বার্তায় জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তদন্তের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হবে। দায়ীদের পাশাপাশি নিম্নমানের খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...