বিজ্ঞাপন
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে রোববার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার সংঘাতে ৮০ জনের বেশি হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
আরব নিউজকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি বলেন, মারিবে সেনাবাহিনী হুথি যোদ্ধাদের প্রতিহত করেছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টার ভয়াবহ সংঘাতের পর ৮০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং বাকিরা পালিয়ে গেছে। এ সময় হুথিদের নয়টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি জানান, মারিব সিটিতে সেনাবাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত চলার সময় পুরো মারিব প্রদেশজুড়ে অভিযান পরিচালনা করে ইয়েমেনের বিমান বাহিনী। অভিযানে প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের সামরিক স্থাপনা ও সেনা সমাবেশস্থলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
তবে সংঘাতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি আল-হাতেমি।
প্রায় এক যুগ ধরে চলা গৃহযুদ্ধ এবং সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে হুথি গোষ্ঠীর উত্তর ইয়েমেন দখলের পর সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে মারিব। বর্তমানে প্রদেশটির বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন।
হুথি গোষ্ঠী মারিব প্রদেশের প্রায় সব অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলেও রাজধানী মারিব সিটির দখল এখনও নিতে পারেনি। শহরটি দখলের লক্ষ্যে হুথিদের একের পর এক অভিযানে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। তবে এসব অভিযানের কোনোটি দিয়েই শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে সফল হয়নি গোষ্ঠীটি।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং ২০১৫ সালে রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুথিদের দখলে যাওয়ার পর থেকে সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের নিয়মিত সংঘাত চলে আসছিল। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে আবারও সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে।
বর্তমানে সৌদি আরব ও ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে হুথি বাহিনীর তীব্র লড়াই চলছে। এতে প্রতিদিনই হুথি যোদ্ধাদের হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানা, আমরান ও হোদেইদায় অন্তত ৫০ জন হুথি সেনা ও কর্মকর্তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে আল-হাতেমির দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে প্রাণহানির কথা স্বীকার করে, তা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের প্রকৃত প্রাণহানির ১০ শতাংশেরও কম। তার হিসাবে, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন। নিজেদের বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়া ঠেকাতেই হুথি গোষ্ঠী প্রকৃত নিহতের সংখ্যা গোপন করছে বলে দাবি করেন তিনি।
আরব নিউজকে আল-হাতেমি বলেন, নিহতের সংখ্যার প্রতি হুথিদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তারা যোদ্ধাদের কেবল ‘ব্যবহারযোগ্য’ বা বলির পাঁঠা হিসেবে দেখে এবং মূল্যহীন ক্রীতদাসের মতো আচরণ করে। তাদের একমাত্র অগ্রাধিকার হলো নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করা।
সূত্র : আরব নিউজ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...