Logo Logo

গোপালগঞ্জে মধুমতির ভাঙনে নিঃস্ব ২০ পরিবার, ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলো


Splash Image

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ “আমার সাত ছেলের ঘরই ভেঙে গেছে বাজান! আমরা সবাই এক জায়গায় থাকতাম, এখন আমাদের মাথা গোঁজার কোনো জায়গা নেই”—কথাগুলো বলতে বলতে তীব্র শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েন ৭০ বছর বয়সী হেমেলা বেগম।


বিজ্ঞাপন


গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে একে একে বিলীন হয়ে গেছে তাঁর সাত ছেলে ও দুই নাতির বসতবাড়ি। চোখের সামনে ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা এই বৃদ্ধার মতো আরও বহু পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে।

গত (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের ডুবুশী ও শিকদারপাড়া এলাকায় মধুমতী নদীর বাম তীরে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে এই ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে।

স্থানীয় জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এফ এম মারুফ রেজা জানান, “শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে এ পর্যন্ত প্রায় ১৩০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বসতবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ২০টি পরিবার। আরও ১১টি পরিবার মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নদীর পাড়ে বসবাস করছে।” তিনি আরও বলেন, “এবার ভাঙনটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তীব্র বেগে হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। গত ৫ দিনে ১২০ বিঘারও বেশি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।”

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত রহমত আলী শেখ (৪২) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত শুক্রবার থেকে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা আমাদের খোঁজ নিতে আসেননি। বাইরে কোথাও জমি কিনে ঘর তোলার সামর্থ্য নেই, তাই বাধ্য হয়ে নদীপথের পাড়েই দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে।”

একই অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন নিঃস্ব সাগরিকা বেগম (৪৫)। তিনি জানান, জীবনের চার-চারবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন তিনি। এবার তাঁর শেষ আশ্রয়টুকুও নদীর একেবারে প্রান্তে এসে ঠেকেছে। স্বামীহারা সাগরিকা বলেন, “ঘরের মালামাল সরিয়ে নিলেও ঘরটি সরানোর মতো সামর্থ্য নেই। সরকারি সাহায্য না পেলে সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাব জানি না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মধুমতীর ভাঙন চললেও গত পাঁচ বছরে তা প্রতিরোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ভিটেমাটি হারিয়ে গত কয়েক বছরে শতাধিক পরিবার পার্শ্ববর্তী নড়াইল জেলায় চলে গিয়ে ‘পার ইছাখালী’ নামে একটি নতুন গ্রাম গড়ে তুলেছেন। গ্রামবাসীদের হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে অন্তত ৫০০ বিঘা জমি মধুমতী নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাাপাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া ফেরদৌস জানান, “জালালাবাদ ইউনিয়নের ডুপসি মোল্লাপাড়া ও শিকদারপাড়ায় প্রায় ৪০০ মিটার এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৪ হাজার জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ফেলা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “এর আগে ২৫০ মিটার এলাকায় জরুরি প্রতিরোধমূলক কাজ করা হয়েছিল। নতুন এই ৪০০ মিটার এলাকার কাজের দ্রুত অনুমোদন পাওয়া গেলে স্থায়ী ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।”

প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন মধুমতীর তীরবর্তী সাধারণ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অবিলম্বে জরুরি ত্রাণ ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...