বিজ্ঞাপন
স্বামী নেই, ছেলে নেই। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া আমেনা বেগম নিজেও শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। একমাত্র মেয়ে কখনো মানুষের বাড়িতে কাজ করেন, আবার কখনো ভিক্ষা করে। সেই আয়ে কোনো রকমে দুই নাতিকে নিয়ে দিন পার করছেন আমেনা। কখনো অর্ধাহারে, আবার কখনো অনাহারেই কাটে তাদের দিন।
সম্প্রতি তার ঝুপড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কোলের নাতিটির সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে স্ক্যাবিস। শিশুটির চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই পরিবারের। এমনকি অসুস্থ শিশুটিকে দেখে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বোঝার মতো পরিস্থিতিতেও নেই পরিবারটি।
আমেনা বেগমের দুর্দশার খবর পেয়ে মনোহরদী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়। দেওয়া হয় নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার। অসুস্থ শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়। পাশাপাশি আমেনা বেগমের থাকার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই সহায়তা হয়তো আমেনা বেগমের দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্টের পুরোপুরি অবসান ঘটাবে না। তবে সংকটের এই সময়ে কেউ তার পাশে দাঁড়িয়েছে—এই অনুভূতিটুকুই যেন তার কাছে বড় হয়ে উঠেছে। অন্তত তিনি এখন বিশ্বাস করতে পারছেন, তিনি একা নন।
আমেনা বেগমের জীবনের গল্পটি যেন আমাদের সমাজের আরেকটি নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। জীবনের প্রতি আমাদের কত অভিযোগ, কত না-পাওয়ার হিসাব। অথচ একটু চারপাশে তাকালেই দেখা যায়—অনেক মানুষের কাছে একবেলা খাবার, মাথা গোঁজার ঠাঁই কিংবা অসুস্থ শিশুর চিকিৎসাই বড় চাওয়া।
ব্রহ্মপুত্রের পাড়ের সেই ঝুপড়িতে হয়তো এখনো অভাবের অন্ধকার। তবে মানবিকতার ছোট্ট একটি আলো সেখানে আশার জন্ম দিয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...