বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মোট ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শূন্য হওয়া ইউনিয়নগুলোতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা চেয়ারম্যানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিষদের সামগ্রিক কার্যক্রম তদারকি করছেন।
তবে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক বসানো হলেও তৃণমূলের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত প্রতিটি ওয়ার্ড এখনো জনপ্রতিনিধি শূন্য। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রান্তিক জনপদে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসকদের দাবি, ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্দিষ্ট প্রশাসক বা তদারককারী না থাকায় মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই-বাছাই ও প্রত্যয়ন সংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজগুলো চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে তারা উপস্থিত থাকলেও ওয়ার্ডের তৃণমূল তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনেক আইনি ও প্রশাসনিক নথিতে স্বাক্ষর করা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলার গারুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ওয়ার্ডের মেম্বার না থাকায় এবং সেখানে বিকল্প প্রশাসক দায়িত্ব না নেওয়ায় তাঁরা মৌলিক সেবাগুলো সময়মতো পাচ্ছেন না। বিশেষ করে উত্তরাধিকার বা ওয়ারিশ সনদ, নাগরিকত্ব সনদ কিংবা মৃত্যু সনদের মতো অতি জরুরি নথি সংগ্রহ করতে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে। এছাড়া হতদরিদ্রদের জন্য পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির খাদ্য সহায়তাও স্থবির হয়ে পড়েছে; গত তিন মাস ধরে ভিজিডি কার্ডের চাল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নিম্নআয়ের মানুষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন চন্দ্র পাল জানান, তৃণমূল পর্যায়ে ভোগান্তির বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সাথে দেখছে। তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর প্রতিটি ওয়ার্ডে দ্রুত প্রশাসক নিয়োগের লক্ষ্যে তালিকা তৈরি করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আশা করছি খুব দ্রুতই এই সংকটের সমাধান হবে এবং নাগরিক সেবা স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...