Logo Logo

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা, আটক ৩


Splash Image

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি, ব্ল্যাকমেইল এবং জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রী সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায় চারজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী (২৩) রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি শাহজাদপুর উপজেলার ডাকবাংলাপাড়ার পশ্চিম পাশে একটি ভবনের ৩য় তলায় মেসে ভাড়া থাকেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার এক পুরুষ বন্ধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মেসে আসেন এবং কিছু সময় অবস্থান করে চলে যান।

ছাত্রীর রুমের পাশেই থাকা একটি বিকাশ অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণকারী কয়েকজন বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে ডেকে এনে সেই সিসিটিভি ফুটেজ দেখায় এবং ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। বিকেলের মধ্যে টাকা না দিলে ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি (ব্ল্যাকমেইল) দেওয়া হয়।

একই দিন রাত পৌনে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে স্থানীয় বিপ্লব কুমারের ৪ তলা ভবনের বিকাশ অফিসে পুনরায় ডেকে নেয়। সেখানে তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার সোনার চেইন দাবি করা হয়। একপর্যায়ে অন্য আসামিদের বাইরে পাঠিয়ে ১ নম্বর আসামি মোঃ তারেক রানা (৩৬) ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী নিজেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে আসার চেষ্টা করলে ২ নম্বর আসামি মোঃ সামাদ (সাহাবউদ্দিন) তাকে ঝাপটে ধরে পুনরায় শ্লীলতাহানি করে।

ভুক্তভোগী বাড়িতে ফোন করার চেষ্টা করলে তার হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। ভবনটির সিঁড়ি দিয়ে নেমে পালিয়ে আসার সময়ও আসামিরা তার ওপর নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কান্না করতে করতে রাস্তায় নেমে আসলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা এগিয়ে আসেন এবং বিষয়টি শোনেন। পরে তিনি তার অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরামর্শে শাহজাদপুর থানায় এসে এজাহার দায়ের করেন।

মামলার অভিযুক্তরা হলেন— শাহজাদপুরের ডাকবাংলাপাড়া এলাকার মোঃ তারেক রানা (৩৬), পিস ল্যাব হাসপাতালের সামনের মোঃ সামাদ (সাহাবউদ্দিন), মোঃ হোসেন আলী (৪৮) এবং মোঃ চয়ন ইসলাম (২৭)।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদক- মোঃ হাফিজ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...