বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ফজরের নামাজের পর থেকেই বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে কোদাল, বেলচা ও পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম নিয়ে সড়কের উন্মুক্ত ও আবদ্ধ ড্রেনগুলো পরিষ্কারের কাজে নামেন দলটির নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এ মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম শেষ হয় দুপুরে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান ড্রেনগুলোর বর্জ্য অপসারণ না করায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছিল। সামান্য বৃষ্টি হলেই এম রহমান সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে একাকার হয়ে যেত। ফলে পথচারী ও এলাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জমাটবদ্ধ দূষিত পানিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বিস্তার এবং পানিবাহিত নানা সংক্রামক রোগের মারাত্মক ঝুঁকি বাড়ছিল। পৌরসভার একাধিকবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনো টেকসই সমাধান না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছিল স্থানীয়দের মধ্যে।
এমন পরিস্থিতিতে জনদুর্ভোগ নিরসনে মাঠে নামেন ওয়ার্ড জামায়াতের নেতাকর্মীরা। অভিযানের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন বলেন, "আমরা রাজনীতিকে মানুষের সেবার অংশ হিসেবে দেখি। ড্রেন বন্ধ হয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছিল। স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পানিবাহিত রোগের হাত থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষায় আমরা নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে ২ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবদ্ধ ড্রেনগুলোও পরিষ্কার করা হবে।"
ওয়ার্ড সেক্রেটারি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার সমালোচনা করে বলেন, "পৌরসভা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার বা পানি নিষ্কাশনের মতো প্রাথমিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলেই আমরা দলীয়ভাবে মাঠে নেমেছি।"
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ওয়ার্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা ও বায়তুল মাল সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, ওয়ার্ড সদস্য মো. নেসার উদ্দিন, মো. আবদুর রাজ্জাক, মিজানুর রহমান, আমিনুল ইসলাম ও বিপ্লব খানসহ ওয়ার্ডের অন্যান্য দায়িত্বশীলরা।
পৌর কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রতা ও অবহেলার মাঝেও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সরাসরি ড্রেনে নেমে ময়লা পরিষ্কার করার এই বাস্তবধর্মী পদক্ষেপকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন এম রহমান সড়কের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই অভিযানের ফলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের স্থায়ী উপশম হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...