বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে কালকিনি পৌরসভার উত্তর জনারদন্দি গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি কেন্দ্র করে এলাকায় বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর জনারদন্দি গ্রামের নশাই সরদারের ছেলে এহছাক সরদারের (৬০) সাথে একই এলাকার ঝালু মোল্লার জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২২ আগস্ট রাতে এহছাক সরদারকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন নির্মমভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। স্বজনরা প্রথমে তাকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত এহছাক সরদারের মেয়ে ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে কালকিনি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও ৮ আসামির মধ্যে ৫ জন জামিনে বেরিয়ে আসেন। এরপর থেকে জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা মামলার বাদী ও তার পরিবারকে দফায় দফায় হুমকি দিয়ে আসছিল।
সর্বশেষ শুক্রবার রাতে প্রতিপক্ষ আসামিরা হত্যা মামলার বাদীপক্ষকে নতুন করে হয়রানি করতে এবং ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরাতে নিজেদের বাড়ির সব মালামাল সরিয়ে নিয়ে একটি পুরোনো ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পরপরই আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
মামলার বাদী ফাতেমা বেগম (মূল বিবরণীতে উল্লিখিত) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার বাবাকে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে ঝালু মোল্লা ও তার লোকজন। এখন তারা আমাদের নতুন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার ষড়যন্ত্র হিসেবে নিজেদের ঘরে নিজেরাই আগুন দিয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার সরদার জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পুরোনো ঘরটির পাশেই একটি নতুন তৈরি ঘর রয়েছে, যাতে আগুনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এতেই স্পষ্ট বোঝা যায়, বাদীপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পুরোনো ঘরটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, আসামিদের বসতঘরে আগুনের ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে নির্দোষ কেউ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পক্ষের সকলেই আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...