বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পূবালী ব্যাংকের ভাইভা বোর্ডে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. রেদোয়ান উকিল। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে পাওয়া তাঁর স্নাতকোত্তরের ট্রান্সক্রিপ্টে ফলাফল প্রকাশের তারিখ ভুল উল্লেখ থাকায় ভাইভা বোর্ডে জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ সময় বোর্ডে তাঁকে ফলাফল প্রকাশের তারিখ ও সার্টিফিকেট ইস্যুর তারিখের মধ্যে গড়মিল নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
এই প্রতিবেদকের কাছে ওই শিক্ষার্থীর ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট এবং ফলাফল প্রকাশের নোটিশের কপি রয়েছে। নথিগুলো যাচাই করে দেখা যায়, তাঁর স্নাতকোত্তরের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল। তবে ট্রান্সক্রিপ্টে ফলাফল প্রকাশের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ২ আগস্ট। অন্যদিকে, সার্টিফিকেট ইস্যুর তারিখ দেওয়া হয়েছে ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই।
এদিকে, পূবালী ব্যাংকের চাকরির আবেদনের শেষ সময় ছিল ২০২৬ সালের মে মাসে। ওই নিয়োগে আবেদনের ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তরের ফলাফল প্রকাশিত থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীর ট্রান্সক্রিপ্টে ফলাফল প্রকাশের তারিখ ২ আগস্ট উল্লেখ থাকায় ফলাফল প্রকাশের আগেই তিনি কীভাবে চাকরিতে আবেদন করলেন, তা নিয়ে ভাইভা বোর্ডে প্রশ্ন তোলা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, এ বিষয়ে যথাযথ উত্তর দিতে না পারায় তাঁকে ভাইভা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মো. রেদোয়ান উকিল বলেন, “একটি প্রশাসনিক ভুলের দায় কেন একজন চাকরিপ্রার্থীকে বহন করতে হবে? পূবালী ব্যাংকের ভাইভায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আমাকে অত্যন্ত বিব্রতকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে ইস্যু করা সার্টিফিকেট ও মার্কশিটে ভুল Date of Issue উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর থেকেই ইস্যু করা হওয়ায়, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি স্বাভাবিকভাবেই এসব নথির সঠিকতার ওপর নির্ভর করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “কিন্তু সেই নথিতে থাকা ভুল তারিখের কারণে আজ পূবালী ব্যাংকের ভাইভা বোর্ডে আমার শিক্ষাগত নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং আমাকে ভাইভা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমাকে যে বাদ দেওয়া হলো, এই দায় কি বিশ্ববিদ্যালয় নেবে?”
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. সাদেকুর রহমান বলেন, “আমাদের কাছে কোনো শিক্ষার্থী এ বিষয়ে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...