বিজ্ঞাপন
রোববার ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সকালে প্রদেশের ফাগওয়ারায় অবস্থিত ওই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বহিরাগতদের হাতে ক্যাম্পাসের এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ও এ-সংক্রান্ত গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
ক্যাম্পাস থেকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধভাবে স্লোগান দিতে ও বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। অন্য ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ভবনের কাঁচ ও ফুলের টব ভাঙচুর করতে দেখা গেছে। এমনকি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হোস্টেলের সামনে থেকে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর হোস্টেলে থাকা এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় কোনো নির্মাণশ্রমিক জড়িত থাকতে পারেন বলেও তারা দাবি করেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে হোস্টেলের তত্ত্বাবধায়ককে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।
প্রদেশের কাপুরথলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার গৌরব তুরা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ বুঝতে পারে, মূলত একটি গুজবকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই গুজবে কান দিয়ে শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। এলপিইউ প্রশাসনের প্রতিও শিক্ষার্থীদের কিছু ক্ষোভ ছিল। পুলিশ তাদের অভিযোগ শুনেছে এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পরবর্তীতে জলন্ধর রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিআইজি) নবীন সিংলা জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ডিআইজি বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের জানিয়েছেন, জি৩ হোস্টেলের এক ছাত্রী তিন দিন আগে ধর্ষণের শিকার হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
নবীন সিংলা বলেন, পুরো ঘটনাটি নিখুঁতভাবে তদন্ত করা হবে। এ জন্য সিসিটিভি ফুটেজ ও ফোন রেকর্ড বিশ্লেষণের পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হবে। ছাত্রপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়েই তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে পুলিশ। ফাগওয়ারার পুলিশ সুপার (এসপি) মেজর সিংকে এই দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এক বিবৃতিতে এলপিইউয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি বলেছেন, বর্তমানে যেসব গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, কিছু ‘সমাজবিরোধী গোষ্ঠী’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বানানো ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে এসব গুজবে কান না দিয়ে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক বার্তার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: এনডিটিভি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...