বিজ্ঞাপন
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল্লাহ শ্যামপুর গ্রামের সুজন হাওলাদারের ছেলে এবং স্থানীয় শ্যামপুর কাদেরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যার দিকে আবদুল্লাহর পিতা সুজন হাওলাদার বাড়ি থেকে পাশ্ববর্তী স্থানীয় বাজারের উদ্দেশে রওনা দেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি ছেলে আবদুল্লাহর হাতে কিছু খাওয়ার জন্য ২০ টাকা তুলে দেন। টাকা হাতে পেয়ে ছেলেটিও স্বাভাবিক ও প্রফুল্ল মেজাজে ছিল। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ পরিবারের পক্ষ থেকে সুজন হাওলাদারের মুঠোফোনে কল আসে যে, আবদুল্লাহ ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। কী কারণে এত দ্রুত সে অসুস্থ হয়ে পড়ল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের কেউ কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্বজনরা দ্রুত কিশোর আবদুল্লাহকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি অসমর্থিত সূত্রের দাবি, ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে কিশোরটি আত্মহত্যা করেছে। তবে মাত্র ১৩ বছর বয়সী শান্ত স্বভাবের একটি মাদ্রাসাছাত্র কী কারণে আত্মহত্যার মতো চূড়ান্ত পথ বেছে নিতে পারে, তা কিছুতেই মেলাতে পারছেন না স্থানীয়রা। এত অল্প বয়সে তার এমন মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি কোনো মানসিক চাপ, পারিবারিক অসন্তোষ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা নিয়ে এলাকায় গভীর রহস্য ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) পলাশ সরকার জানান, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...