বিজ্ঞাপন
বিশ্বকাপে নামার আগে ইউরোপের মাঝারি সারির দল অর্থাৎ পর্তুগিজ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শ্যাভেসে শান্ত-নিরিবিলি ক্যারিয়ার কাটাচ্ছিলেন ভোজিনহা। কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ড্রয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিত্রনাট্য আমূল বদলে যায়। ব্রাজিলিয়ান জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কেজ টিভি’র একটি আহ্বানে সাড়া দেওয়ার পর ভোজিনহার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শুরু হয় ফলোয়ারের সুনামি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তার ফলোয়ার ৫৬ হাজার থেকে লাফিয়ে ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অবজার্ভার-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেই মুহূর্তের বিভ্রান্তি তুলে ধরে ভোজিনহা জানান, ড্রেসিংরুমে দলের এক ক্যাটারিং স্টাফ তাকে এসে বলেছিলেন তার এক বিলিয়ন ফলোয়ার হয়ে গেছে। প্রথমে নিছক তামাশা মনে করলেও পরে মিক্সড জোনে এসে সাংবাদিকদের ফোনে নিজের কোটিপতি অ্যাকাউন্টের বাস্তবতা দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান।
অপ্রত্যাশিত এই খ্যাতির জোয়ার সামলানো এবং খেলায় মনোযোগ অটুট রাখা ভোজিনহার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পরিস্থিতির তীব্রতায় কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনকে তার সাবেক এজেন্ট নিয়োগ করতে হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমের উন্মাদনা সামলাতে। এমনকি ভোজিনহা নিজেও ফোনের ইনস্টাগ্রাম নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেন। তবে মাঠের বাইরে সাধারণ নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার হারিয়ে ফেলা নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি আমার ভেতরের শান্তি ও স্থিরতা হারিয়ে ফেলেছি। আমার আর কোনো ব্যক্তিগত পরিসর অবশিষ্ট নেই। এখন বাইরে বের হলে কিংবা রেস্টুরেন্টে গেলে সবাই ছবি ও অটোগ্রাফ চায়, অনেকে চুপিসারে ভিডিও ধারণ করে। অনেকে খ্যাতি চায় কেবল এর ঝলমলে দিকটা দেখে; কিন্তু আমাকে যদি আজকের খ্যাতি আর আগের শান্ত জীবনের মাঝে বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, আমি নিঃসঙ্কোচে আগের জীবনটাই বেছে নিতাম।”
বিশ্বকাপের এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার পর অসংখ্য বহুজাতিক বাণিজ্যিক ব্র্যান্ড লোভনীয় চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে তার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করে। তবে নীতিগত অবস্থানের ক্ষেত্রে আপসহীন ভোজিনহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি তামাক, অ্যালকোহল কিংবা অনলাইন বেটিং সংক্রান্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করবেন না। বিশ্বকাপের বীরোচিত পারফরম্যান্সের পর ফুটবল ক্যারিয়ারেও নতুন এক বাঁকবদল এনেছেন এই গোলরক্ষক; পর্তুগাল ছেড়ে চিলির ঐতিহ্যবাহী হেভিওয়েট ক্লাব কোলো-কোলোতে যোগ দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) বাছাইপর্বে মালির বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে হারের ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট পোস্ট সামলান তিনি। বয়সের কোঠায় চল্লিশ স্পর্শ করা ভোজিনহার সামনে এখন কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রবল চাপ ও বৈশ্বিক খ্যাতির ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...