বিজ্ঞাপন
তবে পশ্চাদপদ গ্রামীণ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রবীণ নিবাসে রয়েছে নানা সংকট। যাতায়াতের অসুবিধার পাশাপাশি আবাসন সমস্যাও প্রকট। জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করছেন প্রবীণরা। বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজন বাসযোগ্য অবকাঠামো।
জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে মাত্র পাঁচজন প্রবীণকে নিয়ে বিশ্ব মানব সেবা সংঘের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৯ সালে গোপালগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন পায়। নিবন্ধন নম্বর ২২৮/৯৯। বর্তমানে এখানে ২৪ জন প্রবীণ বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ২৬ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
মানবসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০২১ সালে বিশ্ব মানব সেবা সংঘকে ‘মানব কল্যাণ স্বর্ণপদক’ প্রদান করে।
বর্তমানে এই বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসকারীদের মধ্যে রয়েছেন—গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রামের জগদীশ মজুমদার, কলিগ্রামের সিদ্ধেশ্বর বৈরাগী, কাশিয়ানী উপজেলার সিঙ্গা গ্রামের বিনা দত্ত, হাইশুর গ্রামের পারুল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাটারবাড়ি গ্রামের হাসি বিশ্বাস, পদ্মবিলা গ্রামের শান্তি বিশ্বাস, ভেন্নাবাড়ি গ্রামের সবিতা রানী মন্ডল, গোপালগঞ্জ শহরের কালিবাড়ি রোডের কিমোমণি বিশ্বাস, এতিমখানা রোডের সুলতা আঢ্য, খান সাহেব রোডের (নতুন স্কুল রোড) মো. সামাদ শেখ, কোটালীপাড়া উপজেলার লাটেঙ্গা গ্রামের ফুলমালা বাড়ৈ, কলাবাড়ি গ্রামের শক্তিপদ বালা, খুলনা জেলার রূপসা গ্রামের পূর্ণি গোলদার, পটুয়াখালীর গলাচিপার ফুলমতি বেগম, বরগুনার গীতা কর্মকার, মাদারীপুরের কদমবাড়ি গ্রামের আলোমতি মন্ডল, যশোরের জয়পুর গ্রামের সুজিত সিনহা, ব্রহ্মপুরের গীতা মিত্র, বাগেরহাটের রামপালের অভিমন্যু সরদার, কচুয়ার সাবিত্রি মালো এবং নাম-ঠিকানা না জানা চার নারী।
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস বলেন, নাম-ঠিকানা না জানা চার নারী বিভিন্ন স্থানে ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াতেন। তাদের অজ্ঞাত হিসেবে এখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নাম-পরিচয় জানা আরও ২০ জন প্রবীণ এখানে রয়েছেন।
তিনি জানান, ২৪ জন প্রবীণের প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের জন্য প্রয়োজন হয় ১২ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি আটা, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ৮ কেজি বিভিন্ন ধরনের সবজি, আধা কেজি কাঁচা মরিচ, ১০০ গ্রাম শুকনা মরিচ, ২৫০ গ্রাম জিরা, ৫ কেজি মাছ, ৬ কেজি ব্রয়লার মুরগির মাংস, ৩০টি ডিম, ১ কেজি চিনি, ১০০ গ্রাম চা, ১ কেজি চিড়া, ১ কেজি লবণ ও ২৫০ গ্রাম হলুদ। এ ছাড়া ১০টি সাবান, ১ কেজি গুঁড়া সাবান, ওষুধ বাবদ ৫০০ টাকা, গ্যাস বাবদ ১০০ টাকা, জ্বালানি বাবদ ৩০০ টাকা এবং ফল বাবদ ৩০০ টাকা প্রয়োজন হয়।
আশুতোষ বিশ্বাস বলেন, জেলা প্রশাসক বছরে দুইবার জিআরের মাধ্যমে চাল দেন। বিভিন্ন সহৃদয়বান ব্যক্তির সহযোগিতায় কোনো রকমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলা পরিষদের প্রশাসকও ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং তাঁর দপ্তর থেকে আরও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি আরও গতিশীল হবে এবং সেবার মান বাড়বে। শুরু থেকেই সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির পাশে রয়েছে এবং আর্থিকসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে আসছে।
আশুতোষ বিশ্বাস আরও বলেন, “সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০২১ সালে আমাদের প্রতিষ্ঠানকে মানব কল্যাণ স্বর্ণপদক প্রদান করে। এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। তবে আমরা স্বীকৃতির জন্য কাজ করি না। মানবসেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছি। এটি আমার ব্রত।”
গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকউজ্জামান বলেন, আশুতোষ বিশ্বাস একটি ভালো উদ্যোগ নিয়েছেন। তাকে সবার সহযোগিতা করা উচিত। তিনি ব্যক্তিগতভাবেও সহযোগিতা করেছেন। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সমাজকল্যাণমূলক কাজে সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করবে—এমন আহ্বান সরকারের কাছে থাকবে।
গোপালগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুহম্মদ মুরাদ হোসেন বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর সবসময় বৃদ্ধাশ্রমটির পাশে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের কাজের সর্বোচ্চ স্বীকৃতিও দেওয়া হয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
প্রতিবেদক- রবীন্দ্রনাথ অধিকারী, গোপালগঞ্জ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...