বিজ্ঞাপন
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক মুহাম্মদ আবদেল আজিজ আল-নাজ্জারও রয়েছেন। আল জাজিরা তার নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে তিনি কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এদিকে একই দিন গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমে তাল আল-হাওয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ভ্যানে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওই হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মীরা ১৩ জন আহতকে আল-কুদস হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি জানান, চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন, আহতদের অনেককে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা হামলা ও অবরোধে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে এ হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় অন্তত এক নারী নিহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা। দক্ষিণ গাজায় বাস্তুচ্যুতদের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহে দুজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া খান ইউনিসে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের খবরও পাওয়া গেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালগুলোতে অন্তত নয়টি মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে আটজন হামলায় নিহত হয়েছেন। অপর একজন নারী আগের আঘাতের কারণে মারা গেছেন। তথাকথিত যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৪৩১ জনে। এ সময়ে আহত হয়েছেন ৫ হাজার ২২৬ জন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই আহত হয়েছেন ৩১ জন।
হিন্দ খুদারি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর সহিংসতা থামেনি। প্রতিদিনই মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছেন এবং মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সুপারমার্কেটে যাওয়া কিংবা সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজেও মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৪ হাজার ৩২ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৪২ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের আগস্টের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজাজুড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার সংখ্যা ৯ শতাংশ বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...