বিজ্ঞাপন
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কুশলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার কবির শেখ উপজেলার বিরামের কান্দি গ্রামের সরোয়ার শেখের ছেলে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ছয় মাস ধরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কবির শেখ ওই শিক্ষিকাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষিকা কবিরের পরিবারের সদস্যদের জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে কবির শেখ ওই শিক্ষিকার পথরোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় শিক্ষিকার আত্মীয়স্বজন এগিয়ে এসে কবিরকে মারধর করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যান। পরে খবর পেয়ে কবিরের পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
কবির শেখের ভাতিজি জোসনা বেগম বলেন, ‘আমার চাচার একটু মাথায় সমস্যা আছে। তিনি আগে অটো চালাতেন। ওই অটোতে যাতায়াতের সময় ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকেই তিনি ওই শিক্ষিকাকে বিয়ে করার জন্য পাগলামি শুরু করেন। তবে তাকে এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি।’
উত্ত্যক্তের শিকার ওই শিক্ষিকা বলেন, ‘আমি স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কবির প্রায়ই আমাকে উত্ত্যক্ত করত। পথরোধ করত। মাঝে মাঝে স্কুলে যাওয়ার পথে পানি ছিটিয়ে আমাকে ভিজিয়ে দিত। আমি সামাজিকভাবে এলাকাবাসীকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। তার উত্ত্যক্তের কারণে অনেক সময় ভয়ে ছুটি নিতাম। উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিসে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।’
কবির শেখকে কারা মারধর করেছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই শিক্ষিকা বলেন, ‘কারা কবির শেখকে মারধর করেছে, তা আমি জানি না।’
কোটালীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জণ ভক্ত বলেন, ওই শিক্ষিকা তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। পরে ইউএনওকে সঙ্গে নিয়ে কবির ও তার পরিবারের লোকজনকে ডেকে আনা হয়েছিল। তখন তারা ওই শিক্ষিকাকে আর উত্ত্যক্ত করবে না বলে কথা দিয়েছিলেন।
কোটালীপাড়া থানার অফিসার এসআই সুকুমার কুন্ড বলেন, এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...