Logo Logo

গোপালগঞ্জে আগুনে পুড়ে সর্বশান্ত হলো দরিদ্র এক পরিবার


Splash Image

গোপালগঞ্জে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি দরিদ্র পরিবারের বসতঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে পরনের কাপড় ছাড়া সবকিছু হারিয়ে এখন দিশেহারা অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে পরিবারের সাত সদস্য।


বিজ্ঞাপন


অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে পরিবারটির আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ভয়াবহ এই আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবার, ফায়ার সার্ভিস কিংবা এলাকাবাসী সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

অগ্নিকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রধান জয়তুন বেগম জানান, গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তিনি বসতঘরের পাশে থাকা কাছারি ঘরে আগুন দেখতে পান। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বসতঘর ও রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গোপালগঞ্জ সদর থেকে ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই বসতঘরসহ তিনটি ঘরই সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

জয়তুন বেগম আবেগপ্লুত হয়ে আরও বলেন, "এখন আমরা সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও দিশেহারা। পরনের কাপড় ছাড়া আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমাদের খাওয়ার মতো কোনো খাবার নেই, রাতে মাথা গোঁজারও ঠাঁই নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমার ছেলে মামুন মোল্লাও এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া পুনরায় ঘরবাড়ি তৈরি করার মতো কোনো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে মানবিক সাহায্যের আকুল আবেদন জানাচ্ছি।"

ঘটনার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সমবেদনা জানালেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত পরিবারটির আহার ও রাত্রিযাপনের বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৌশিক আহমেদ বলেন, "আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাটি আমি শুনেছি এবং এতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে সহায়তার আবেদন পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সরকারি সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হবে।"

প্রতিবেদক- কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জ।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...