বিজ্ঞাপন
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার আগে নাট মন্দিরটি ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছে কালীবাড়ি মন্দির কমিটি ও জেলা হিন্দু সমাজ। একই সঙ্গে এ কাজে সহযোগিতার জন্য প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ঝালকাঠির অসাম্প্রদায়িক মুসলিম সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে তারা।
রোববার (৪ অক্টোবর) কালীবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানানো হয়। কালীবাড়ি মন্দির কমিটি ও দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটি এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। ব্রিফিংয়ে মন্দির কমিটির নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নাট মন্দিরটি দখল ও নানা জটিলতার মধ্যে ছিল। দীর্ঘ ৫৪ বছর পর সেই জটিলতার অবসান ঘটিয়ে নাট মন্দিরটি অবমুক্ত করা হয়েছে। আসন্ন দুর্গাপূজার আগে এটি ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় মন্দির কমিটি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ বিরাজ করছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারের নির্দেশনা এবং ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেনের সহযোগিতায় নাট মন্দিরটি দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ঝালকাঠি জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “এটি আমার আওতাধীন বিষয় নয়। তাদের অনুমতি দেওয়ার কেউ আমি নই।” ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনও বলেন, “কাউকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে, ঝালকাঠির আলোচিত বারোচালা নিয়ে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, শুধুমাত্র দুর্গাপূজা উপলক্ষে ওই স্থানটি কালীবাড়ি মন্দির কর্তৃপক্ষকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বারোচালার বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে কালীবাড়ি মন্দির কমিটি ও জেলা হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে নাট মন্দির ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে ভূমিকা রাখা সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। বিশেষ করে শুরু থেকেই মন্দিরটি দখলমুক্ত করতে সহযোগিতা করায় ঝালকাঠির অসাম্প্রদায়িক মুসলিম সমাজের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন অসীম রঞ্জন রায়। এ সময় কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি ও শহর বিএনপির সহ-সভাপতি চন্দন পোদ্দার, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বিষ্ণু চন্দ্র ধর, দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পান্নালাল দে, সাধারণ সম্পাদক ও শহর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন মণ্ডলসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঝালকাঠি শ্রী শ্রী কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দিরে এসে দুর্গোৎসবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। মন্দির কমিটির নেতারা বলেন, দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হওয়ায় এবার উৎসবের পরিবেশ আরও আনন্দমুখর হবে বলে তারা আশা করছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...