বিজ্ঞাপন
জুলুশা বেগম মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের চরচান্দ্রা মৌজার বাসিন্দা কাশেম খলিফার স্ত্রী। পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য তার জমি অধিগ্রহণ করে সরকার।
পরিবারের অভিযোগ, ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরের ১ নম্বর এলএ কেসের মাধ্যমে জুলুশা বেগমের বসতঘরের অধিগ্রহণ বাবদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হলেও তা গোপন রাখে একটি প্রতারকচক্র।
জুলুশা বেগমের সন্তানরা পরবর্তীতে সেতু মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। কয়েক বছর পর সেখানকার নথিপত্র থেকে তারা জানতে পারেন, তাদের মায়ের নামে ঘরবাড়ির ক্ষতিপূরণের ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় যোগাযোগ করলে জালিয়াতির মাধ্যমে ওই অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি তাদের কাছে স্পষ্ট হয়।
পরিবারটির অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ওই সময় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন ইউপি সদস্য সিরাজ ফকির জুলুশা বেগমের ঘরবাড়ির ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করেন। তাদের দাবি, ঘরবাড়ির ক্ষতিপূরণের অর্থ নিজ নামে উত্তোলন না হওয়ায় সরকারি আবাসন প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ থেকেও বঞ্চিত হন জুলুশা।
ক্ষতিগ্রস্ত জুলুশা বেগম বলেন, “তৎকালীন ইউপি মেম্বার সিরাজ ফকির এই পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তার জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্প থেকে আমি বঞ্চিত হয়েছি। এ ঘটনায় সিরাজ মেম্বারের বিচার হওয়া উচিত।”
জুলুশার স্বামী কাশেম খলিফা বলেন, “আমার স্ত্রীর নামে ঘরবাড়ির বিল সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজ ফকির তুলে নেয়। ক্ষতিপূরণের তালিকায় জুলুশার নাম না থাকায় সরকারি আবাসনের প্লট জোটেনি। আমাদের বড় একটি ক্ষতি করেছে প্রতারকচক্র। আমরা মামলা করতেও পারিনি। আমাদের ভয় দেখিয়ে আইনের কাছেও যেতে দেয়নি প্রভাবশালীরা।”
জুলুশার ছেলে শাহীন খলিফা বলেন, “বারবার ডিসি অফিসে গেলেও বিল উত্তোলনের বিষয়ে আমরা জানতে পারিনি। পরে অনেক টাকা খরচ করে সেতু মন্ত্রণালয়ে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারি। শেষমেশ বিষয়টি জানাজানি হলে সিরাজ মেম্বার আমাদের কিছু টাকা দিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। আমরা এই ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। সিরাজসহ যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচারের পাশাপাশি আমার মায়ের জন্য সরকারি একটি প্লট বরাদ্দের দাবি করছি।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে প্রথমে বাধা সৃষ্টি করেন অভিযুক্ত সিরাজ ফকিরের দুই ছেলে জুবায়ের ও জুনায়েত। পরে প্রশ্নের মুখে সিরাজ ফকির অভিযোগ অস্বীকার না করে দাবি করেন, জুলুশা বেগমের নিবন্ধনবিহীন ক্ষমতাপত্র নিয়ে জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে তিনি ঘরবাড়ির ক্ষতিপূরণের বিল উত্তোলন করেছিলেন। পরে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে ক্ষতিপূরণের টাকা ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে দিয়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, “যেহেতু এটি একটি পুরনো ঘটনা, এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবে জেলা প্রশাসন।”
অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সরকারি আবাসন প্রকল্পে বঞ্চিত জুলুশা বেগমের পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...