Logo Logo

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১১০৬


Splash Image

নোয়াখালী জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। দশ দিনব্যাপী পরিচালিত এই বিশেষ চিরুনি অভিযানে কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্টতায় মোট ১ হাজার ১০৬ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে অপরাধে সরাসরি জড়িত থাকায় ৮৫ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় বাকি ১ হাজার ২১ জনকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নবাগত পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুরো জেলায় জননিরাপত্তা রক্ষা ও তরুণ প্রজন্মকে অন্ধকার পথ থেকে ফেরাতে এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার ৯টি থানা এলাকায় দিন-রাত সমান্তরাল অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

আইনি ব্যবস্থা নেওয়া ৮৫ জনের বিবরণ তুলে ধরে পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ৫৩ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিল, ৭ জনকে নিয়মিত মামলায় ও ১৩ জনকে পূর্বের বিভিন্ন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত ২ জন ও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) মাধ্যমে ৪ জনকে তাৎক্ষণিক সাজা প্রদান করা হয়েছে এবং বাকি ২ জনকে সামারি ট্রায়ালের আওতায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অভিযানের থানাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সর্বোচ্চ ২৮৯ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া জনবহুল বেগমগঞ্জ থানায় ১৮৩ জন, কোম্পানীগঞ্জে ১৩১ জন, সুধারাম মডেল থানায় ১২৫ জন, চরজব্বরে ১১০ জন, সোনাইমুড়ীতে ৯২ জন, কবিরহাটে ৬০ জন, চাটখিলে ৫৯ জন এবং সেনবাগ থানা এলাকায় ৫৭ জনকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অপরাধের তীব্রতা না থাকা ১ হাজার ২১ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণকে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধে না জড়ানোর লিখিত মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, "কিশোর গ্যাং কালচার তরুণ সমাজকে বিপথগামী করছে এবং সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করছে। এটি নির্মূলে আমাদের এই জিরো টলারেন্স অভিযান চলমান থাকবে। তবে কেবল কঠোর আইনি প্রয়োগ নয়, কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক সামাজিক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...