Logo Logo

নোয়াখালীতে ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত্যু


Splash Image

নোয়াখালীর সেনবাগে আমন ধানখেতে ইঁদুর মারার উদ্দেশ্যে পেতে রাখা অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শেখ খাজা মাইনুদ্দিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গরুর জন্য ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। ঘটনার পর থেকে ধানখেতের মালিক জাকির হোসেন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে সেনবাগ উপজেলার অর্জুনতলা ইউনিয়নের ঘোরকাটা গ্রামের একটি ধানখেতের পাশে মাইনুদ্দিনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কৃষকেরা। এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ওই জমিতে ঘাস কাটতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। নিহত শেখ খাজা মাইনুদ্দিন দক্ষিণ ঘোরকাটা গ্রামের বাসিন্দা মৃত শেখ শফিকের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশের ফসলি মাঠ থেকে গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটতে বের হন মাইনুদ্দিন। তবে সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাতের বেলা কোনো হদিস না মিললেও শুক্রবার ভোরে স্থানীয় লোকজন ঘোরকাটা গ্রামের একটি ধানখেতের আইলে তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাশের গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন (৩০) তাঁর উঠতি আমন ধানের ফসল ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা করতে পুরো জমিতে জিআই তার দিয়ে সরাসরি মেইন লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ টেনে ফাঁদ তৈরি করে রেখেছিলেন। কোনো প্রকার সতর্কতা সংকেত ছাড়াই দেওয়া এই মরণফাঁদ দেখতে পাননি মাইনুদ্দিন। ঘাস কেটে আঁটি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অসাবধানতাবশত ওই বিদ্যুতায়িত তারে স্পর্শ লাগামাত্রই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সকালে মাইনুদ্দিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই জমির মালিক জাকির হোসেন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে সেনবাগ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ফসলের ক্ষতি রোধে এভাবে খোলা তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় এবং চরম বিপজ্জনক। প্রায়ই এমন অবৈধ ফাঁদে পড়ে সাধারণ মানুষ ও গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হযরত আলী মিলন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধানখেতে অননুমোদিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটানো আইনত গুরুতর অপরাধ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জাকির হোসেন পলাতক রয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই মামলাসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...