বিজ্ঞাপন
রাঁচিতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারত ৫ উইকেটে তোলে ২৪৯ রানের বিশাল সংগ্রহ। তবে সেই লক্ষ্যও মামুলি বানিয়ে ফেলে ক্যারিবীয়রা। অধিনায়ক শাই হোপের অপরাজিত বিধ্বংসী শতক এবং শেরফান রাদারফোর্ডের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৯ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই রেকর্ড জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। এটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তি; যেখানে সর্বোচ্চ ২৫৭ রান তাড়ার রেকর্ডটি রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার দখলে। এর কিছুদিন আগেই গুয়াহাটিতে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ৪০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য ৩৯ বল বাকি থাকতেই টপকে গিয়েছিল ভারত। ফলে এক মাসেরও কম সময়ে এমন অতিমাত্রায় রানপ্রসবা পিচ বোলারদের জন্য একপ্রকার দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ শেষে বোলারদের পক্ষে সোচ্চার হয়ে স্বাগতিক কোচ গৌতম গম্ভীর বলেন, দর্শক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাই ক্রিকেটে ব্যাট ও বলের একটি সুষম ও রোমাঞ্চকর লড়াই দেখতে চায়। গম্ভীর ক্ষোভের সুরে জানান, এই বোলাররা দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু বর্তমান ফ্ল্যাট উইকেট আর ব্যাটিংবান্ধব নিয়মের কারণে তাদের ক্যারিয়ার এখন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। উইকেটে প্রতিযোগিতা যদি সমান না হয়, তবে ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য হারিয়ে যাবে বলেই মনে করেন তিনি।
২৫০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই চরম বিপদে পড়েছিল। ভারতীয় পেসার মায়াঙ্ক যাদবের আগুনে গতিতে প্রথম ওভারেই দুটি এবং পাওয়ারপ্লেতে মোট তিনটি উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় তারা। তবে সেখান থেকে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি পাল্টে দেন হোপ ও রাদারফোর্ড। ম্যাচসেরা শাই হোপ মাত্র ৪৫ বলে ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায় খেলেন অপরাজিত ১০২ রানের টর্নেডো ইনিংস। অন্যপ্রান্তে ৩৭ বলে সমান ৭টি চার ও ছক্কায় ৮৪ রান করেন রাদারফোর্ড। শেষদিকে রোমারিও শেফার্ড ১৩ বলে ৩৪ রানের ক্যামিও খেলে জয় নিশ্চিত করেন।
পরাজয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গৌতম গম্ভীর অকপটে স্বীকার করেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে কোনো হারকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে শিশিরভেজা ফ্ল্যাট উইকেটে পাওয়ারপ্লেতে শুরুর ধাক্কার পরও বোলাররা যেভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, সেখান থেকে উন্নতির পথ খুঁজে বের করতে হবে। তবে উইকেটের প্রতিকূলতার মধ্যেও ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করে সাফল্য পাওয়া তরুণ পেসার মায়াঙ্ক যাদবের ভূয়সী প্রশংসা করেন গম্ভীর। তিনি জানান, একজন খাঁটি ফাস্ট বোলারের কাজই হলো নিজের সর্বোচ্চ গতি দিয়ে আক্রমণ করা, যা এদিন মায়াঙ্ক সাহসের সঙ্গেই করে দেখিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...