ছবিটি এআই ব্যবহার করে সম্পাদিত।
বিজ্ঞাপন
সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের যাত্রী হতাহত হন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী হামলায় সর্বমোট ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।
আহত ২৪ জন বাংলাদেশির মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁরা হলেন—ঢাকার হাফেজ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজী নুরুল্লাহ এবং সৌদি প্রবাসী কর্মী মো. ওমর ফারুক। বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছে।
এছাড়া অন্য আহতরা রিয়াদের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে ভর্তি আছেন নওগাঁর সাফকাত রহমান (বর্তমানে অচেতন) ও কুমিল্লার মো. দাউদুল ইসলাম। রিয়াদ মেডিক্যাল হাসপাতালে ঢাকার মো. সাইমুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন চিকিৎসাধীন। প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে ঢাকার মো. আব্দুল্লাহ এবং সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় ঢাকার আরমান হোসেনসহ তিন কর্মী চিকিৎসায় আছেন।
অন্যান্যদের মধ্যে কিংডম হাসপাতালে মো. রফিক মিয়া; কিং খালেদ মেডিক্যাল সিটিতে ইসমাইল হোসাইন, মো. মিসবাহ উদ্দিন হীরক ও মো. রায়হানুল ইসলাম এবং প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোহবে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার ভর্তি আছেন। এজতাহ সনদ হাসপাতালে মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল; সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আলহাবিবের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দূতাবাস সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহত সব বাংলাদেশি মূলত রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রানজিট যাত্রী হিসেবে বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন।
এই আকস্মিক হামলার ঘটনায় রিয়াদ হয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রুটে যাতায়াতের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েন। একইসঙ্গে রিয়াদ থেকে ঢাকায় ফেরার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও অনিশ্চয়তায় পড়েন। দুর্ভোগ কমাতে বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
টার্মিনাল-৩-এ সৌদিয়া এয়ারলাইনস (এসভি৮০৪), রিয়াদ এয়ার (আরএক্স১৭) ও ইউএস-বাংলা (ইউএস২৮১)-এর ফ্লাইটে আসা এবং ফ্লাইনাস, ফ্লাইএডিল ও ফ্লাইরিয়াদের মাধ্যমে সৌদির অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা ১০০ জন যাত্রীর জন্য আবাসন ও খাবারের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁদের মেরিয়ট হোটেল, রেডিসন হোটেল ও প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে রাখা হয়েছে।
ইতোমধ্যে ইহরাম পরিহিত পবিত্র ওমরাহ পালনে আসা ৬৭ জন বাংলাদেশিকে বিশেষ বাসে করে রিয়াদ থেকে নিরাপদে জেদ্দায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রিয়াদ-ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি-৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে বিকল্প হিসেবে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রিয়াদ থেকে বাহরাইনগামী দুই বাংলাদেশি কর্মীকে আলখোবার স্থলবন্দর দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দূতাবাস সহায়তা প্রদান করেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...