Logo Logo

কোটালীপাড়ায় সরকারি খাল দখল করে বাড়ি ঘর নির্মাণ


Splash Image

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের লোহারংক খাল দখল করে কাঁচা-পাকা বাড়িঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি। সম্প্রতি প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে দখলকৃত খালটি শনাক্ত করে লাল নিশান টাঙালেও এখন পর্যন্ত দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়নি। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও আবেদনকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে জানা গেছে, লোহারংক গ্রামের মনির বিশ্বাস, সেলিম বিশ্বাস, বাবুল মোল্লা, ইমারত মোল্লা, আমজাদ মোল্লা, মোহাম্মদ আলী দাড়িয়া, সেকেন্দার দাড়িয়া, আউয়াল দাড়িয়া, মানির দাড়িয়া, কাসেম দাড়িয়া, ইব্রাহিম দাড়িয়া, কিবরিয়া বিশ্বাস ও রতন দাসসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সরকারি খালটি ভরাট করে দখলে নিয়েছেন। দখল করা জায়গায় কাঁচা-পাকা বাড়িঘর নির্মাণ করে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন।

খালটি দখলমুক্ত করার দাবিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর লোহারংক গ্রামের ফরিদ দাড়িয়াসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা খালটি উদ্ধারে উদ্যোগ নেন।

গত কয়েক দিন ধরে প্রশাসনের লোকজন সরেজমিনে গিয়ে খালটির অবস্থান ও সীমানা নির্ধারণের কাজ করছেন। এ সময় দখলকৃত অংশ শনাক্ত করে লাল নিশান টাঙানো হয়। তবে কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও খালটি দখলমুক্ত করতে কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে আবেদনকারীদের মধ্যে হতাশা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

আবেদনকারী ফরিদ দাড়িয়া বলেন, “প্রায় ৩০ বছর ধরে লোহারংক খাল দখল করে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। খালটি দখল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ কারণে আমরা গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে খালটি দখলমুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করেছি। আমাদের আবেদনের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের লোকজন খালটি মেপে শনাক্ত করে লাল নিশান টাঙিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কয়েক দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত খালটি দখলমুক্ত করা হয়নি।”

দখলদার মোহাম্মদ আলী দাড়িয়া বলেন, “আমার দলিলের জায়গার ওপর দিয়ে গ্রামের লোকজন সরকারি রাস্তা নিয়ে আমাকে খালের জায়গা দিয়েছে। এখন রাস্তার জায়গা আমাকে ছেড়ে দিলে আমি খালের জায়গা ছেড়ে দেব।”

অপর দখলদার মনির বিশ্বাস বলেন, “খালের জায়গা দখল করে আমি বাড়িঘর নির্মাণ করেছি। প্রশাসন থেকে আমাকে যখন বলা হবে, তখন আমি খালের জায়গা ছেড়ে দেব।”

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, “খালটি মেপে জায়গা নির্ধারণের কাজ এখনো চলছে। পরবর্তীতে উচ্ছেদের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালের সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে সরকারি খালটি দখলমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি গ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যারও সমাধান হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...