বিজ্ঞাপন
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ (চলতি দায়িত্ব) শামীম আকতার চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজের গভর্নিং বডির (জিবি) সভাপতি মো. রিদুয়ানুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক এইচ এম আবু ওবায়দা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিবি সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম ফোরকান, কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, জিবি সদস্য মো. তৈয়ব ও ডা. শাহনাজ আক্তার। এ ছাড়া জিবি সদস্য মো. আব্দুল করিম, মো. দলিল আহমেদ, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, ফরিদা ইয়াসমিনসহ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষক-কর্মচারীরা বক্তব্য দেন এবং অবসরগ্রহণকৃত সমীর রঞ্জন নাথ ও মো. শফিকুর রহমানের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে দুজনের অবদান ও কাজের প্রশংসা করেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা, সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্ক এবং কর্মজীবনের নানা স্মৃতি উঠে আসে তাঁদের বক্তব্যে। একই সঙ্গে বক্তারা তাঁদের অবসর-পরবর্তী জীবনে সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও আনন্দ কামনা করেন।
বক্তারা বলেন, কর্মজীবনের অবসান ঘটলেও মানুষের কাজ, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার স্মৃতি সহজে মুছে যায় না। একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে যে সম্পর্ক তৈরি হয়, তা কর্মজীবনের বাইরেও অটুট থাকে। বিদায়ের এই মুহূর্ত তাই একদিকে যেমন আনন্দের, অন্যদিকে তেমনি স্মৃতি ও আবেগেরও।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত দুজনের সম্মানে কেক কাটা হয়। তাঁদের অবসর-পরবর্তী গ্র্যাচুইটি বাবদ কলেজ তহবিল থেকে চেক এবং কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাপ্য অর্থ নগদে প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাঁদের হাতে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষক-কর্মচারীরা ফুল দিয়ে তাঁদের শুভেচ্ছা জানান। ফুলেল শুভেচ্ছা, স্মৃতিচারণ ও আন্তরিক ভালোবাসায় বিদায় আয়োজনটি হয়ে ওঠে আরও আবেগঘন ও প্রাণবন্ত।
দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে সমীর রঞ্জন নাথের অবসর কলেজ পরিবারের জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায়। শিক্ষক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেছেন। পাশাপাশি সহকারী অধ্যাপক, উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, নৈশপ্রহরী মো. শফিকুর রহমানও তাঁর কর্মজীবনের দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেলেন। তাঁদের বিদায় সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে কলেজ পরিবার জানায় শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ হলেও সহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো সময়, স্মৃতি ও সম্পর্ক তাঁদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে। কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের অবসর-পরবর্তী জীবন সুস্থতা, শান্তি ও আনন্দে কাটুক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...