Logo Logo

ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

উখিয়ায় বিএনপি নেতার নেতৃত্বে বাজারে ভাঙচুর ও লুটপাট


Splash Image

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের তাজনিমার খোলা এলাকায় এফডিএমএন ক্যাম্প-১৯ সংলগ্ন আলমগীর বাজারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল বাজারটিতে হামলা চালিয়ে দোকানপাট ভাঙচুর করে, বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয় এবং জমির মালিককে আহত করে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাতনামা ৩০ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের তাজনিমার খোলা এলাকায় অবস্থিত আলমগীর বাজারটি ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা ঢলের পর শরণার্থীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়। কাঁটাতারের বাইরে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় ক্যাম্প-১৯-এর রোহিঙ্গাদের সুবিধার্থে বাজারটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেখানে শতাধিক দোকানে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতো।

পরিবারটির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাজারটিকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির তৎপরতা শুরু হয়। তাদের পৈতৃক সম্পত্তিতে গড়ে ওঠা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে কথিত চাঁদাবাজরা চাঁদা দাবি করে। জমির মালিকেরা চাঁদা দিতে নিরুৎসাহিত করায় তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা পাশের আরেকটি জমি ভাড়া নিয়ে নতুন বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ব্যবসায়ীদের সেখানে দোকান নিতে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়। এমনকি দোকান না নিলে মামলা ও হামলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে চাপের মুখে অধিকাংশ ব্যবসায়ী নতুন বাজারে চলে গেলে আলমগীর বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে জমির মালিকেরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে পুনরায় ব্যবসা চালুর উদ্যোগ নেন। নতুন করে ব্যবসায়ী সংগ্রহ করে দোকানপাট খুলে কার্যক্রম শুরু করলে নতুন বাজারের মালিকপক্ষের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হয় বলে তাঁদের অভিযোগ।

পরিবারটির দাবি, এরপর তাঁদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালানো হয় এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত পরিবার হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের রাজনৈতিক মামলারও শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

সর্বশেষ গত ১২ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে উখিয়া উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, নুরুল আমিন মেম্বার, জয়নাল মেম্বার ও নূর হোসেনের নেতৃত্বে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল আলমগীর বাজারে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় দোকানপাট ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়। ক্রিস দা দিয়ে কুপিয়ে দোকানগুলোর বেড়া ও দরজা কেটে ফেলা হয় এবং একাধিক স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলায় জমির মালিক আহত হন বলেও দাবি করেছে পরিবারটি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাশেই এপিবিএনের ক্যাম্প থাকা সত্ত্বেও ঘটনার সময় তাঁরা কোনো সহযোগিতা পাননি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ ঘটনায় উখিয়া থানায় দায়ের করা এজাহারে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে এজাহারের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, নুরুল আমিন মেম্বার ও জয়নাল মেম্বার ইয়াবাসংক্রান্ত মামলার আসামি। তাঁরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীর প্রভাবের কথা বলে বেড়ান এবং তাঁর নির্দেশে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারটির সদস্যরা সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী এবং উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই তাঁরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, ইয়াবা ব্যবসা, জমি দখল ও মানুষের ওপর হামলার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ করা না গেলে চৌধুরী পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে এপিবিএন পুলিশের ডিআইজি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখা দিলে এপিবিএন পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি যথাসময়ে ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

ক্যাম্প-১৯-এর ইনচার্জও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে থানা পুলিশ ও এপিবিএনকে যৌথভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টহল তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শনাক্তকরণ এবং নিরাপদ পরিবেশে পুনরায় ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...