বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে শুরু হওয়া বিরোধ পরে অগ্নিবীণা হল ও কলা ভবন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর দুজনের মধ্যে একজন ত্রিশাল মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমানকে প্রথমে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাঁরা ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা এবং চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, দিদারুল ইসলাম আঘাত পেয়ে ত্রিশাল মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন। এনপিএল আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতকেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান নজরুল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) ম্যাচ চলাকালে বল মাঠের সীমানার ভেতরে চলে যাওয়া নিয়ে টুর্নামেন্টের আয়োজক ও পাশের মাঠে ফুটবল খেলতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও গালাগালি হয়। পরে খেলা শেষে বিরোধ মীমাংসার জন্য দুই পক্ষ একত্র হলে উত্তেজনা আবারও বাড়ে। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।
এ সময় ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভকে ২০তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী চড় মেরেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে অগ্নিবীণা হল ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে এনপিএল আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাত, নাসিম ও আরেক খেলোয়াড়কে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাঠে ফুটবল খেলতে আসা ইংরেজি এবং লোকপ্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
পরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কয়েকজন কলা ভবনের সামনে অবস্থান নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ও আয়োজক কমিটির সদস্য সিফাতের নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
একপর্যায়ে কলা ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সেখান থেকে সরে যায়। পরে কলা ভবনের পেছনে তিনজনকে পেয়ে রড ও ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গেও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, প্রক্টরসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যা কখনোই কাম্য নয়। মোট ছয়জন আহত বলে জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে পরে কথা বলতে পারব।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...