বিজ্ঞাপন
বরিশাল জেলা ও এর আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে সম্পূর্ণ নির্ভয়ে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সেজন্য বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পূজা উদযাপন কমিটির প্রতি ২৩টি বিশেষ ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সামাজিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে প্রতিটি মণ্ডপকে সিসিটিভির আওতায় আনা, বিতর্কিত জায়গা পরিহার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো সদস্যকে সম্পৃক্ত না করার মতো বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই নির্দেশনায়।
এদিকে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনার আলোকে মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ। বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আদিল হোসেন উপজেলার প্রতিটি দুর্গাপূজা মন্দির ও মণ্ডপের উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় সভা করে এই ২৩ দফা নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালনের জোর আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো ধরনের অবহেলা বা নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে থানা পুলিশ।
পুলিশ সুপারের ঘোষিত নির্দেশনাগুলোর মধ্যে মণ্ডপের ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বেশ কিছু মৌলিক বিষয় রয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, পূজা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তিবর্গের কাছে কোনো ধরনের দাবি উত্থাপন করা যাবে না। পূজা কমিটিতে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং বা কোন্দল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সড়কের পাশে অবস্থিত পূজা মণ্ডপগুলোকে কখনোই অরক্ষিত রাখা যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই বিতর্কিত বা বিরোধপূর্ণ স্থানে মণ্ডপ স্থাপন করা যাবে না। এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সদস্যদের সম্পৃক্ত করে কোনো ধরনের স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা যাবে না। প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সার্বক্ষণিক ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে।
জরুরি দুর্যোগ ও মণ্ডপ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং বৈদ্যুতিক লাইনে কোনো ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ রাখা যাবে না। লোডশেডিং মোকাবিলার জন্য নিজস্ব জেনারেটর ও চার্জিং বাতির বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষ ও নারী ভক্ত-দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য তৈরি করতে হবে পৃথক প্রবেশ ও নির্গমন পথ। এছাড়া যানজট এড়াতে মণ্ডপের আশপাশের সড়কে গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেল পার্কিং নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি মণ্ডপ এলাকায় জুয়া, হাউজি বা মাদকের আড্ডা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিয়োজিত সব স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও সক্রিয় মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট থানার ওসির কাছে দ্রুত জমা দিতে হবে। আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকদের দিনে ও রাতে পালাক্রমে দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে এবং আনসার সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা মণ্ডপের নিকটবর্তী স্থানেই করতে হবে। কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা বিশৃঙ্খলাকারী নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে হবে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া ধর্মীয় সম্প্রীতির অংশ হিসেবে আজান ও নামাজের সময় মণ্ডপের মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিসর্জন পর্বের নিরাপত্তা নিয়ে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সন্ধ্যার পর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে রাত ৮টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে। যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নদী বা জলাশয়ের ঘাটে নারী ও শিশুদের অনাবশ্যক ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনের পর মন্দির প্রাঙ্গণ কিংবা উন্মুক্ত কোনো স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন না করার জন্যও সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ প্রশাসন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...