বিজ্ঞাপন
শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেছেন, শিশুটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শও দেওয়া হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি ইজিবাইকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় ফারহান। পরে তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে সাড়ে ০৩টার দিয়ে তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির বাবা খায়রুল শেখ অভিযোগ করে বলেন, “ জরুরী বিভাগ থেকে ছেলেকে চারতলায় ওয়ার্ডে নেওয়ার পর স্যালাইন দেওয়া নিয়েও দেরি করা হয়। বারবার খোঁজ নিতে গেলেও চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাইনি। ছেলের অবস্থার অবনতি হচ্ছিল, কিন্তু অক্সিজেনও দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকেরা শুধু ইনজেকশন দিচ্ছিলেন। ছেলের মাথায় আঘাতের বিষয়টি জানানোর পরও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
খায়রুল শেখ আরও বলেন, চিকিৎসকেরা সিটি স্ক্যান করানোর কথা বললেও তা করাতে দেরি হয়। তাঁর অভিযোগ, দ্রুত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
শিশুটির মামা সাব্বির শেখ বলেন, “আমরা বারবার কর্তব্যরত চিকিৎসককে শিশুটির অবস্থা দেখার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি আমাদের কথায় গুরুত্ব দেননি। পরে আবার চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি শিশুটিকে ঢাকা বা খুলনায় নিয়ে যেতে বলেন। শিশুটির মাথায় আঘাতের কথা জানালে সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।”
সাব্বির শেখের অভিযোগ, দুপুর ১২টার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই সিটি স্ক্যান করানো হয়নি। এতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হয় এবং এ সময় শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফারুক আহমেদ বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পরপরই তার শারীরিক অবস্থা ও আঘাতের ইতিহাস জেনে পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যাতে মাথায় আঘাতের ধরন, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়। কিন্তু স্বজনেরা সিটি স্ক্যান করাতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় নেন। পরীক্ষা করা হলে আঘাতের প্রকৃতি বুঝে পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো।”
ডা. ফারুক আহমেদ আরো বলেন, “হাসপাতালে আনার সময় শিশুটি সচেতন ছিল এবং তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরবর্তী সময়ে তার অবস্থার অবনতি হয়। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি। আমি নিজেও দুই থেকে তিনবার শিশুটিকে পর্যবেক্ষণ করেছি।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...