Logo Logo

১৭ লাখ টাকাসহ নিখোঁজ ব্যবসায়ী ৪ দিন পর উদ্ধার


Splash Image

চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর চাটখিলে ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর নিখোঁজ হওয়া ব্যবসায়ী মোঃ ফোরকান উদ্দিনকে চার দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে দুর্বৃত্তরা তাকে কুমিল্লার লালমাই বাজারের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তবে উদ্ধারের পর তিনি ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু মনে করতে পারছেন না।

নিখোঁজ ফোরকান উদ্দিন চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের ছফর আলী মিছাব বাড়ির রুহুল আমীন মাস্টারের ৩য় সন্তান।

পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর (সোমবার) সকালের দিকে উত্তর মোহাম্মদপুর শান্তির হাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখা থেকে ১৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার চেক ও ছেঁড়া ৫ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে ফোরকান উদ্দিনকে চাটখিল ইসলামী ব্যাংক মূল শাখায় পাঠানো হয়। তিনি ব্যাংক থেকে মোট ১৬ লাখ ৭৫ হাজার ৩০০ টাকা উত্তোলন করে দুপুর ১টা ৩২ মিনিটের দিকে বের হন। ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে টাকা নিয়ে বের হতে দেখা যায়।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক থেকে বের হওয়ার পর তিনি এলাকায় যাওয়ায় জন্য একটি সিএনজিতে উঠেন। সেখানে আগে থেকে দুজন যাত্রী ছিল। পথে আরেকজন যাত্রী সেখানে উঠে। চাটখিল উপজেলার কাছারি বাজার এলাকা পর্যন্ত নিয়ে যায়। এরপর তাকে চেতনানাশক বা অন্য কোনো পদার্থ প্রয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে, যার ফলে কাছারি বাজার পৌঁছানোর পর থেকে তার আর কোনো স্মৃতি বা ঘটনা মনে নেই।

এদিকে ঘটনার পর ব্যাংক এজেন্টের ইনচার্জ মোঃ সিরাজ উল্যা বাদী হয়ে চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গত চার দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

অবশেষে শুক্রবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে দুর্বৃত্তরা তাকে কুমিল্লার লালমাই বাজারের পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। এরপর তিনি নিজে হেঁটে লালমাই বাজারে আসেন এবং সেখানে এক হোটেল মালিককে তার ছোট ভাই সুজনের ফেসবুক আইডি জানান। ওই হোটেল মালিক ফেসবুক আইডি খুঁজে ভোর ৫টার দিকে সুজনকে প্রথমে মেসেঞ্জারে নক দেন। এরপর মোবাইলে ফোন করে বিষয়টি জানান।

ছোট ভাই সুজন ফোরকান উদ্দিনকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোররাতের দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল করে তার ভাইয়ের অবস্থানের কথা জানানো হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত কুমিল্লার লালমাইয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, নিখোঁজ থাকার চার দিন তার সাথে কী ঘটেছিল বা উত্তোলিত টাকা কোথায় গেল—এসব বিষয়ে ভুক্তভোগী ফোরকান উদ্দিন এখনো কোনো কিছু মনে করতে পারছেন না। তবে এসময় তাকে বেশ মারধর করা হয়েছে পরিবারের সদস্যরা জানান। শারীরিক ও মানসিকভাবে তিনি এখনো বেশ অসুস্থ।

এ বিষয়ে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, “ব্যবসায়ী ফোরকান উদ্দিনকে উদ্ধারের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত থাকায় এখনই বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। টাকা উদ্ধারের চেষ্টা এবং ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টানা চার দিন পর ব্যবসায়ী ফোরকান উদ্দিনের জীবিত উদ্ধার হওয়ার খবরে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...