জব্দ করা পণ্যের সঙ্গে কাস্টমস গোয়েন্দারা
বিজ্ঞাপন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ২২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যের পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে ঢাকার বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিস থেকে। সেখানে জব্দ করা গৌরি ক্রিম ও ব্যবহৃত ল্যাপটপের আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, অবৈধ ও অননুমোদিত পণ্যের আমদানি প্রতিরোধ, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং ভোক্তা ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থ রক্ষায় এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
চট্টগ্রামে স্বর্ণবার, ঢাকায় ৩০ লিটার মদ
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটের এক যাত্রীকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে নজরদারিতে নেওয়া হয়। যাত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারের ঘোষণা দিলেও জিজ্ঞাসাবাদে স্বর্ণবার বহনের কথা অস্বীকার করেন।
পরে অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে বিমানবন্দরের কাস্টমস হলরুমে দেহ তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। ডিটেনশন মেমোর মাধ্যমে স্বর্ণবারটি আটক করা হয়েছে। এর শুল্ক-করসহ আনুমানিক বাজারমূল্য ২১ লাখ ৬ হাজার টাকা।
একই দিন ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক তৎপরতায় ৩০ লিটার মদ আটক করা হয়। সকাল ১১টায় ভারতের মুম্বাই থেকে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২১৮৩ ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজে ১৬ লিটার মদ পাওয়া যায়। এ ছাড়া বিমানবন্দরের একটি টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭ দশমিক ৫ লিটার এবং আরো দুই যাত্রীর কাছ থেকে ৬ দশমিক ৫ লিটার মদ জব্দ করা হয়। জব্দ করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ টাকা।
৫৭ লাখ টাকার কসমেটিক ইনজেকশন আটক
১৬ অক্টোবর সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে শ্রীলঙ্কার কলম্বো থেকে আসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের ইউএল-১৮৯ ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তা স্ক্যান ও পরীক্ষা করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এ সময় মো. রাকিব হোসেনের ব্যাগেজ থেকে চার ধরনের মোট ১৫৫টি ডার্মাল ফিলার ও স্কিন বুস্টার জব্দ করা হয়। পণ্যগুলোর সম্মিলিত পরিমাণ ১৬১ মিলিলিটার এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে রেস্টিলেন লিডোকেইন ৫৫টি, রেস্টিলেন লিফট লিডোকেইন ৫৪টি, জুভেডার্ম ভলুমা উইথ লিডোকেইন ৪০টি এবং প্রোফাইলো ৬টি।
এসব পণ্য মুখের বলিরেখা কমানো, ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং মুখের গঠন পরিবর্তনের মতো প্রসাধনসংশ্লিষ্ট কাজে ইনজেকশনের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। অধিদপ্তর জানিয়েছে, পণ্যগুলোর আমদানির বৈধতা ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন যাচাই করা হচ্ছে।
ফরেন পোস্ট অফিসে বিপুল পরিমাণ ক্রিম ও ল্যাপটপ
১৬ অক্টোবর ঢাকার বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিসে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৩৭ কার্টনে থাকা ১ হাজার ১০৪ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ গৌরি স্কিন হোয়াইটেনিং ক্রিম এবং ২৩টি আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত কোর আই-৫ ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।
অধিদপ্তরের ভাষ্য, অননুমোদিত ত্বক ফর্সাকারী প্রসাধনীতে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তবে, জব্দ করা গৌরি ক্রিমে পারদ, স্টেরয়েড বা অন্য কোনো ক্ষতিকর উপাদান আছে কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে কোনো পরীক্ষার ফল উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, আমদানি নিষিদ্ধ ব্যবহৃত ল্যাপটপের অননুমোদিত প্রবেশ ভোক্তাদের পণ্যমান, কার্যক্ষমতা ও বিক্রয়োত্তর সেবার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার রক্ষার পাশাপাশি রাজস্ব ফাঁকি ও অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর এবং অন্যান্য শুল্ক স্টেশনে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...