Logo Logo

লালনের মানবতাবাদী দর্শন তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে: গোপালগঞ্জের ডিসি


Splash Image

মহাত্মা লালন সাঁইজির চিরন্তন মানবতাবাদী চেতনা ও অহিংস দর্শনের বার্তা নিয়ে গোপালগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় তাঁর তিরোধান দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


বিজ্ঞাপন


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, "মহাত্মা লালন সাঁইজি ছিলেন অসাম্প্রদায়িকতা, প্রেম ও চিরন্তন মানবতার প্রতীক। তাঁর দর্শনে কোনো জাত-পাত বা ধর্মের কৃত্রিম ভেদাভেদ ছিল না; মানুষই ছিল তাঁর সকল ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমান সময়ে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন মানবতাবাদী চেতনা ছড়িয়ে দিতে লালনের দর্শন চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। তরুণ প্রজন্মকে লালন সাঁইজির জীবন ও সৃষ্টির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে জেলা প্রশাসন সব সময় এ ধরনের উদ্যোগের পাশে থাকবে।"

আলোচনা পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ তারেক সুলতান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ুন রশীদ। অনুষ্ঠানে 'লালন দর্শন ও তাঁর মানবতাবাদ' শীর্ষক জ্ঞানগর্ভ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সালেহ। জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার ও বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ফারহান কবীর সিফাতের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সুচারু পরিচালনায় পুরো আয়োজনটি দর্শক-শ্রোতাদের মাঝে নান্দনিক মাত্রা যোগ করে।

উল্লেখ্য, ১৮৯০ সালের পয়লা কার্তিক মহাত্মা লালন সাঁইজির দেহাবসানের পর থেকেই প্রতিবছর বাংলা ও বিশ্বজুড়ে তাঁর ভক্ত-অনুরাগী ও সুধী সমাজ গভীর শ্রদ্ধায় এ দিবসটি পালন করে আসছে। লালনের জীবনাদর্শ জাত-পাতহীন ও ধর্মনিরপেক্ষ মানবপ্রেমের যে পথ দেখিয়েছিল, বর্তমান বৈশ্বিক ও সামাজিক অস্থিরতার যুগে তা দিন দিন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক ও অপরিহার্য হয়ে উঠছে।

আলোচনা সভা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা শিশু একাডেমি, জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা, ত্রিবেনী গণসাংস্কৃতিক সংস্থা, মৃদঙ্গ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, বিশ্ববীণা সংগীত একাডেমি, গোপালগঞ্জ কালচারাল ক্যানভাস এবং জলসা ঘর সংগীত একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিল্পীরা যৌথ ও একক কণ্ঠে কালজয়ী লালনগীতি পরিবেশন করেন। বিশেষ করে কণ্ঠশিল্পী মোঃ হাফিজুর রহমান শেখ, বাউল মমতা দাসী, সজীব দত্ত ও শেখ সবুজের ভাবগম্ভীর গান উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। এ আয়োজনে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...