বিজ্ঞাপন
শনিবার (১৭ অক্টোবর) নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফসানা রিমা এবং সিভিল জজ মো. তোসিকুল আলমের যৌথ স্বাক্ষরিত নোটিশ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নোটিশপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন— বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন, সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজু আলী এবং আরাজী দক্ষিণ বঠিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জুলফিকার রহমান।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণ ভোটারদের বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করতে মসজিদসহ ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। জমা দেওয়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫(খ) বিধান লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট মো. পয়গাম আলীর দায়ের করা এই অভিযোগের ভিত্তিতে দেলাওয়ার হোসেনকে আগামী ১৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর রাতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া মসজিদে এশার নামাজ শেষে গণসংযোগকালে দেলাওয়ার হোসেনকে বাধা ও হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনকেও শোকজ করা হয়েছিল। দেলাওয়ারের নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ আলমগীরের অভিযোগে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাসহ ১৫-২০ জন অস্ত্রধারীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়।
শনিবার ফয়সল আমীনের পক্ষে তাঁর প্রতিনিধি আইনজীবী মো. এনতাজুল হক লিখিত জবাব দাখিল করেন। জবাবে অভিযোগটিকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে দাবি করা হয়, নির্বাচনে সম্ভাব্য বিজয় বাধাগ্রস্ত ও পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নেওয়া ও গোপনীয় বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক জুলফিকার রহমানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও পৌর যুব বিভাগের সভাপতি মো. রাজিউর রহমানের অভিযোগ, রুহিয়া উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়নে বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধনসহ নানা কর্মসূচিতে ওই শিক্ষক বক্তব্য দেন এবং তা ফেসবুকে প্রচার করেন; যা আচরণবিধির ২১(ক) ও ২১(খ) ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন। যদিও তাঁর জবাবের বিস্তারিত জানা যায়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ওই শিক্ষক দাবি করেছেন— ‘তাঁকে এভাবে থামানো যাবে না’।
একইভাবে, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজু আলীকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে লিখিত জবাবে রাজু আলী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, গত ৫ অক্টোবর রাতে ৩৮ জন সহকর্মীকে নিয়ে তিনি ফয়সল আমীনের সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি। তিনি দাবি করেন, অভিযোগে উল্লেখিত সংগঠনটির কোনো অস্তিত্ব নেই এবং বিনা প্রমাণে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রার্থীদের পক্ষ থেকে সমঅধিকার ও সুষ্ঠু পরিবেশের দাবি জানানো হয়েছে। জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, প্রচারণায় বাধা ও কর্মীদের হুমকি দেওয়ার কারণে সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করতেই তাঁরা ইসিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের লিখিত জবাব ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আইন ও বিধিমাল্যা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত (২২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা) ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...