বিজ্ঞাপন
এদিকে গুরুতর অসুস্থ কিশোরী বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়িউড়া উত্তরপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে একই গ্রামের সিরাজুল উলুম মাদ্রাসায় ওয়াজ শুনতে যাওয়ার পথে কিশোরীকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। এজাহারে বলা হয়েছে, আগে থেকে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে তাকে বাড়িউড়া লাউয়ের খালের রাস্তার পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর মা।
এজাহার অনুযায়ী, একপর্যায়ে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তাকে বাড়ির পাশে রেখে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তার কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তদের একজন প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে কিশোরী বাড়িতে ফিরে তার মাকে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৫ অক্টোবর তাকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা সমেলা সরাইল থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেন, মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করার কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। মামলায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূইয়া জানান, বাড়িউড়া গ্রামের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগীর চিকিৎসার অবস্থা, ঘটনার প্রকৃত সত্যতা ও মামলার অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফলে অভিযুক্তদের আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করার বিধান রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, পুলিশ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করবে, পলাতক অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনবে এবং ভুক্তভোগী পরিবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা পাবে। অভিযোগের যথাযথ তদন্তের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...