বিজ্ঞাপন
রোববার (১৮ অক্টোবর) সরেজমিনে বিভিন্ন জুতার দোকান ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দোকানের সামনে বড় বড় ব্যানার টাঙিয়ে ‘বিশেষ অফার’ ও ‘৩০ থেকে ৮০ শতাংশ ছাড়ে জুতা বিক্রি হচ্ছে’—এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এ সময় কয়েকটি দোকানে জুতার দাম যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, কিছু জুতার গায়ে ইচ্ছামতো বেশি দাম লেখা হয়েছে। পরে সেই দামের ওপর বড় অঙ্কের ছাড় ঘোষণা করে জুতা বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রকৃতপক্ষে পণ্যের দাম কমানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মূল্যছাড় না দেওয়া কয়েকটি দোকানের মালিকের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, তাঁদের দোকানে পুরোনো জুতা নেই, তাই তাঁরা ছাড় দিচ্ছেন না। অন্যদিকে, কয়েকটি দোকানে পুরোনো, নষ্ট ও ছেঁড়া জুতা বিক্রির জন্য মনগড়া দাম নির্ধারণ করে তার ওপর বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ক্রেতারা। তাঁদের দাবি, এতে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন।
বিশেষ অফারে জুতা কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, জুতার গায়ে আগের নির্ধারিত মূল্য উল্লেখ না থাকায় তাঁরা প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেন না। তাঁদের অভিযোগ, কিছু দোকানে ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে তার ওপর মূল্যছাড় ঘোষণা করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে পণ্যের দাম কমানো হচ্ছে কি না, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ক্রেতা বলেন, “গতকাল ৮০০ টাকার একটি জুতা অফারে অর্ধেক দামে কিনেছিলাম। আজ সেটি পরে বাজারে আসার সময় জুতার চামড়া উঠে যায়। পরে জুতাটি নিয়ে দোকানে গেলে তাঁরা বলেন, অফারের জুতা এমনই হবে।
স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষ জুতার প্রকৃত বাজারদর সম্পর্কে সব সময় অবগত না থাকায় ‘৫০ থেকে ৮০ শতাংশ ছাড়’ কিংবা ‘বিশেষ মূল্যছাড়’ লেখা ব্যানার দেখে আকৃষ্ট হচ্ছেন। ফলে পণ্যের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তাঁরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
তাঁরা আরও বলেন, কোনো জুতার প্রকৃত বাজারমূল্য যদি এক হাজার টাকা হয়, অথচ সেটির গায়ে দুই হাজার টাকা লিখে ৫০ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করা হয়, তাহলে ক্রেতাদের কাছে সেটি আকর্ষণীয় অফার বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে পণ্যটির দাম কমানো হয়নি বলে তাঁদের দাবি।
এ ধরনের মনগড়া মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা।
এ বিষয়ে মাইমুন সুজ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “আমার দোকানে এক কোটি টাকার জুতার মজুত রয়েছে। এই অফারের মাধ্যমে মজুত খালি করে নতুন জুতা তুলতে পারব।
জুতার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুতার ক্রয়মূল্য বিবেচনা করেই বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তাঁর দাবির সমর্থনে ক্রয়মূল্যের কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নালিতাবাড়ী পাদুকা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রিপন মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, অভিযোগগুলো সঠিক। কয়েকটি দোকানে মনগড়া দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোকে সতর্ক করবেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...