বিজ্ঞাপন
স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। তার সঙ্গে থাকেন তার বড় ভাইয়ের পরিবারও। এবারের শারদীয় দূর্গা পূজায় তিনি পরিবারের স্বজনদের জন্য তেমন কোন কেনা কাটাই করতে পারেননি। বাজারে চাল ডাল তেল লবন, তরকারিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দাম গত কয়েক বছরের মধ্যে অনেক বেশি হয়ে পড়ায় সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। তার উপরে মাস শেষে বিদ্যুত বিলের বড় বোঝা ঘাড়ে এসে পড়ে। সেখানে শারদীয় দূর্গা পূজার পরিবারের জন্য পোষাক-আষাক কেনা কাটা অনেকটা বিলাসিতার পর্যায়ে পড়ে গেছে।
রঞ্জন কুমার মল্লিক বলেন, ‘এবারের পূজাতে নিজের স্ত্রী, সন্তান আর বড় ভাইয়ের বউয়ের স্ত্রীর জন্য অল্প কিছু পোষাক কিনেছি। বাজারে সবকিছুর দামের সঙ্গে এবারের পূজাতে পোষাক-আষাকের দোকানে প্রচুর দামি পোষাক এসেছে। এসব পোষাক আমাদের মতন অল্প আয়ের মানুষদের জন্য ক্রয় করা অনেকটা স্বপ্নের মতন হয়ে গেছে। তাই সাধ থাকলেও পরিবারের সবার জন্য নতুন পোষাক ক্রয় করার সাধ্য নেই।
একই ধরনের কথা জানান শহরের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গদাধর বণিক। তিনি পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘বাজারের জামা-কাপড়ের দোকানে ঢুকলে হাজার হাজার টাকা নিয়ে ঢুকতে হয়। নইলে সর্ব নিম্নভাবে যেটুকু পোষাক-আষাক কেনা দরকার, সেটাও কেনা সম্ভব হয় না। এখন পূজা-পার্বণে কেনা কাটা করা বিলাসিতার পর্যায়ে চলে গেছে। যাদের টাকা আছে, তারাই এখন দামি দামি পোষাক-আষাক কেনা কাটা করতে পারে।
একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স মিতু মধু। তিনি বলেন, ‘বাজারে এসেছি পরিবারের জন্য কিছু কেনা কাটা করতে। কিন্তু বাজারে সব কিছুর দাম অনেক বেশি। বাজেট যা আছে, তাতে পরিবারের সবার জন্য কেনা কাটা করা সম্ভব না। তাই বাধ্য হয়েই কেনা কাটা সীমিত করে ফেলতে হচ্ছে। আয়ের উপরে ভিত্তি করে কেনা-কাটায় ব্যয় করতে হবে। তবে নিজের বাজেটের মধ্যে যা কিনতে পারবো, সেটা আবার বেশি পছন্দও হয় না। সব মিলিয়ে খুব মুশকিলের মধ্যে আছি। আসলে নিম্ন বিত্তের জীবনটাই অনেক আফসোসের হয়ে গেছে। আয়ের সাথে ব্যয়ের কোন মিল না থাকায় অনেক সাধই অপূর্ণ রাখতে হচ্ছে।
কথা হয় মাদারীপুর শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরান বাজারের এক কাপড় ব্যবসায়ী মৃনাল দেবনাথের সাথে। তিনি বলেন, ‘গত বছর যে কোয়ালিটির কাপড় পাইকারী কিনেছি, এবার তার থেকে বেশি দামে কিনে আনতে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই গত বছরের চেয়ে এবারে কাপড়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় খুব বেশি বাড়েনি। এবারেও পূজার কেনা কাটা তো শেষের পথে। বেচা কেনা গত বছরের মতনই হয়েছে। মানুষ জামা-কাপড় কিনছে, তবে এখন অনেক বেশি চিন্তা ভাবনা করে কাপড় ক্রয় করে থাকেন। যার যেমন বাজেট তেমনই কেনেন। তবে মানুষ এখন হিসেব করেই সব কিছু কেনা কাটা করেন।’
বীথি ফ্যাশনের বিপণন কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, এবারের শারদীয় দূর্গা পূজায় আমাদের বেচা কেনা মোটামুটি হয়েছে। তবে আশা করেছিলাম আরো একটু বেশি বেচা-বিক্রি হবে। কিন্তু আশানুরূপ হয়নি। তবে একদম খারাপ বলব না। মানুষ এখন প্রয়োজনের বেশি অতিরিক্ত পোষাক কম কিনেছে। আগে যেমন এক সেট এর জায়গায় দুই সেট পোষাক কিনতো। এবার দেখা গেছে, এক সেট কিনে নিচ্ছে।
একই অবস্থা পূজা উপলক্ষ্যে পুরান বাজার রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সামনে থাকা মেলার দোকানিদের অবস্থাও। প্রতি বছর দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সামনে দূর্গা পূজার দশমীর দিনের দশরা উপলক্ষ্যে মেলা বসে। মেলার বেচা কেনা কমতে কমতে এখন মাত্র তিনটি দোকান তাদের মেলার পন্য সাজিয়ে বসেছেন। দশ বছর আগেও যেখানে প্রতি বছর ২০ টি দোকানি এখানে মেলা করতে আসতেন। মেলার এক দোকানি আবদুর রহমান। তিনি বলেন, অনেক বছর ধরেই মাদারীপুর পুরান বাজারের বড় মন্দিরের সামনে মেলা করছি। কিন্তু এখন আর আগের মতন বেচা-কেনা না থাকায় দোকানও কমে গেছে। এবছর মাত্র তিনটি দোকান আমরা বসিয়েছি।
মাদারীপুর বণিক সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাদারীপুরের ব্যবসায়ীরা পূজা উপলক্ষ্যে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকদের কাছ থেকে খুব বেশি দাম ক্রেতাদের কাছ থেকে রাখেন না। তবে এখন ব্যবসায়ীদের সব কিছুই পাইকারি কিনতে আগের চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনতে হয়। সেজন্য কিছুটা দাম বেড়েছে। তবে তা ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই আছে। তবে যারা নিম্ন বিত্ত পরিবার। তাদের বর্তমান সময়ে কেনা-কাটা করাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, এটা সত্য।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...