Logo Logo

মাগুরায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা


Splash Image

আলী আশরাফ, মাগুরা প্রতিনিধিঃ মাগুরায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. শাকের হোসেন (শাকের) নামে পৌর যুবদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।


বিজ্ঞাপন


এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বাস কাউন্টার বন্ধ রেখে সড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকেরা। পরে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খানের হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

নিহত শাকের হোসেন মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর বাড়ি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পারনান্দুয়ালী গ্রামের বেপারীপাড়ায়। তিনি মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের সামনে আসেন। তাঁদের একজন মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। অন্যজন কাউন্টারের ভেতরে প্রবেশ করে শাকের হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তাঁরা। এ সময় বাইরে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেলটি উচ্চ শব্দ করছিল বলে জানান স্থানীয়রা।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাকের হোসেনকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মইনুল ইসলাম তাঁর মাথার পেছনে গুলির চিহ্ন শনাক্ত করেন এবং তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।

নিহতের মামা রানা মোল্লা জানান, বুধবার ভোর ৫টার পর শাকের নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ময়নাতদন্তের সময় নিহত শাকের হোসেনের মাথার ভেতর থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।

শাকের হোসেন নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাস টার্মিনালের কাউন্টার মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে সকাল ৭টা থেকে বাস কাউন্টার বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা।

একপর্যায়ে মাগুরা-ফরিদপুর সড়ক, ঢাকা রোড এবং ভায়না এলাকায় মাগুরা-যশোর সড়কে বাস আড়াআড়িভাবে রেখে অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এতে সড়কগুলোর উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। আটকা পড়েন শত শত যানবাহনের যাত্রী ও চালক। দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পরে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান ঘটনাস্থলে এসে পরিবহন শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। তাঁর হস্তক্ষেপে পরিবহন শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে মাগুরা-ফরিদপুর, ঢাকা রোড ও মাগুরা-যশোর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করেন।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডের তদন্তকাজ শুরু করেছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

প্রকাশ্য কর্মস্থলে একজন পরিবহনকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, কী কারণে শাকের হোসেনকে হত্যা করা হয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের স্বজন ও পরিবহন শ্রমিকেরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন ও দায়ীদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...