বিজ্ঞাপন
ওয়েবসাইট বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, জরুরি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশাধিকার আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এটি কোনো বিপর্যয় নয়, বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে আগাম প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইটি ও সাইবার সিকিউরিটি সেল পুরো ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করছে। ঝুঁকি পর্যালোচনা শেষে পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থা ও প্যাচ আপডেট নিশ্চিত হওয়ার পরই পোর্টালটি পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও প্রযুক্তি গণমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, সম্প্রতি পিএইচপির নির্দিষ্ট কিছু সংস্করণে দুটি গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এ ধরনের ত্রুটিকে সাইবার পরিভাষায় 'রিমোট কোড এক্সিকিউশন' ঝুঁকি বলা হয়, যার মাধ্যমে হ্যাকাররা দূর থেকেই সার্ভারে অননুমোদিত কোড বা ক্ষতিকর নির্দেশ পাঠাতে সক্ষম হয়। এর ফলে সার্ভারের গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেজ, সংরক্ষিত নথি ও সংবেদনশীল তথ্য চুরির মতো বড় ধরনের সাইবার বিপর্যয় ঘটতে পারে। সেই বৈশ্বিক সতর্কতার অংশ হিসেবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে সার্ভার অফলাইনে সরিয়ে নেওয়ার কৌশল বেছে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, অতীতে ২০১৬ সালের রিজার্ভ চুরিসহ বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক এখন অনেক বেশি তৎপর। পিএইচপি বিশ্বজুড়ে ওয়েব প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় সর্বাধিক জনপ্রিয় ভাষা হলেও এর নিয়মিত সিকিউরিটি প্যাচ ও সংস্করণ হালনাগাদ না থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্রুটি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিকর ট্রাফিক ঠেকাতে শক্তিশালী ফায়ারওয়াল সক্রিয় রাখা এবং সাময়িকভাবে সংশ্লিষ্ট সার্ভার বিচ্ছিন্ন রাখাই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সর্বোত্তম চর্চা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে দ্রুতই ওয়েবসাইট সচল হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...