বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের একটি আধাসরকারি পত্র বা ডিও লেটারের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। ওই চিঠিতে রাজাপুর পৌরসভা গঠন এবং ৪ নম্বর গালুয়া ইউনিয়নকে প্রশাসনিকভাবে ভেঙে দুটি পৃথক ইউনিয়ন গঠনের একটি সুপারিশ স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়। সংসদ সদস্যের এই প্রস্তাবের বিষয়টি জনসমক্ষে এলে পুরো এলাকা জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং স্থানীয়রা দুটি বিপরীত মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েন।
ইউনিয়নের অখণ্ডতা রক্ষার দাবিতে সোচ্চার একাংশ বিকেল ৪টায় গালুয়া বাজারে বিশাল মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে। তাদের প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়, গালুয়া ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সীমানা অটুট রাখতে হবে। ইউনিয়ন বিভক্তির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করে বরং বিদ্যমান প্রশাসনিক সেবার মান বৃদ্ধি, নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং গালুয়াকে একটি আধুনিক ‘মডেল ইউনিয়ন’ হিসেবে রূপান্তরের দাবি জানান তারা।
এর বিপরীতে, ‘বৃহত্তর পুটিয়াখালীর সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে বিকেল ৩টায় গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে পৃথক মানববন্ধনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তাদের দাবি, ভৌগোলিক দূরত্ব এবং প্রশাসনিক সুবিধার স্বার্থে বৃহত্তর পুটিয়াখালীকে দ্রুত ৭ নম্বর ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
কর্মসূচির স্থান ও সময় অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়ায় এবং দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে সাধারণ বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফিরোজ কামাল জানান, "একই এলাকায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। জননিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে। শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার চেষ্টা হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ইউনিয়ন বিভক্তিকরণ সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এখনও না আসায় পুরো রাজাপুরে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...