বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের কাইতার বাড়ির সামনের সড়ক থেকে ভুক্তভোগীকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে এ পাশবিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী খোরশেদ নাঈম উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আফাজ মিয়া পাটোয়ারী বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি ঢাকায় ‘জননী কুরিয়ার সার্ভিস’-এর গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে, অভিযুক্ত নুর আলম একই ইউনিয়নের বেছা পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন তিনি ঢাকা থেকে চাটখিল বাজারে এসে একটি অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে কাইতার বাড়ির সামনে পৌঁছালে পূর্ববিরোধের জেরে নুর আলমের প্রত্যক্ষ নির্দেশে কয়েকজন লোক অটোরিকশাটির গতি রোধ করে। এরপর দুজন ব্যক্তি তাঁর দুই পাশে বসে গামছা দিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে বেধড়ক মারধর শুরু করে। অন্য সহযোগীরা অটোরিকশা চালকের পাশে বসে গাড়িটি খিলপাড়া এলাকার দিকে নিয়ে যেতে বাধ্য করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খিলপাড়া ওহাব কলেজের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁকে উপর্যুপরি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারা হয়। পরবর্তীতে পাইকপাড়া এলাকার একটি ব্রিজের পাশের নির্জন বাগানে নিয়ে লাথি-ঘুষির পাশাপাশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় ও শরীরে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর শরীরে গুরুতর রক্তজমাট ও রক্তাক্ত জখম সৃষ্টি হয়।
নির্যাতনের একপর্যায়ে তাঁর কাছে থাকা নগদ ২৩ হাজার টাকা, ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যমানের একটি ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, ৪ হাজার ৫০০ টাকার একটি হাতঘড়ি এবং যথাক্রমে ৫৩ হাজার ও ২৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের দুটি দামি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী নাঈম আরও দাবি করেন, শারীরিক নির্যাতনের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মূল পরিকল্পনাকারী নুর আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে। তখন নুর আলমের নির্দেশে তাঁর পরনের শার্ট-প্যান্ট খুলে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র অবস্থায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নুর আলমের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে এই বিষয়ে কাউকে কিছু না জানাতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁকে সরাসরি ঢাকায় চলে যেতে বলা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা অন্য একটি অটোরিকশায় করে তাঁকে বাস কাউন্টারের সামনে ফেলে রেখে যায়। সেখান থেকে তিনি স্বজনদের খবর দিলে পরিবারের সদস্যরা এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
দেরিতে অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার পর বিচার চেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নুর আলমসহ অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে চাটখিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ জানান, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রতিবেদক- মোঃ সিরাজুল ইসলাম হাসান, চাটখিল, নোয়াখালী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...