বিজ্ঞাপন
দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর এ সমঝোতা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ক্যাথলিক আর্চডায়োসিস (খ্রিস্টধর্মের প্রধান ধর্মপ্রদেশ) বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষতিপূরণ চুক্তি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) যাজকদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন আর্চবিশপ রোনাল্ড হিকস। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বাক্ষরের পরই চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে। আগামী ৬ নভেম্বরের সপ্তাহে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে।
নিউইয়র্কের ক্যাথলিক গির্জার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করা ব্যক্তিদের আইনজীবীরা এর আগে সমঝোতার ঘোষণা দেন। চুক্তির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রত্যেক ব্যক্তি কত টাকা পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ঘটনায় এর চেয়ে বড় ক্ষতিপূরণ চুক্তি হয়েছিল লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যাথলিক গির্জার (আর্চডায়োসিস) সঙ্গে। ২০২৪ সালে প্রায় এক হাজার নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিকে ৮৮ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয় প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে একই ধরনের দাবিতে আরও ৭৪ কোটি ডলার পরিশোধ করেছিল তারা।
এছাড়া চলতি বছরের জুনে সান ফ্রান্সিসকোর আর্চডায়োসিস (খ্রিস্টধর্মের প্রধান ধর্মপ্রদেশ) প্রায় ৫০০টি মামলার নিষ্পত্তিতে ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নিউ অরলিন্সের আর্চডায়োসিস (খ্রিস্টধর্মের প্রধান ধর্মপ্রদেশ) অন্তত ২৩ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সমঝোতাও অনুমোদন করেন এক ফেডারেল বিচারক।
নিউইয়র্কের আর্চডায়োসিস (খ্রিস্টধর্মের প্রধান ধর্মপ্রদেশ) বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর নিষ্পত্তির জন্য চলতি বছরের মে মাসে একটি সমঝোতার কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। এতে অভিযোগ দায়ের করা প্রত্যেক ব্যক্তির সম্মতি প্রয়োজন ছিল।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ক্যাথলিক (খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে বড় শাখা বা সম্প্রদায়) গির্জার বিরুদ্ধে এক হাজারের বেশি মামলা করা ব্যক্তিদের আইনজীবী জেফ অ্যান্ডারসন এক বিবৃতিতে বলেন, অভিযোগকারীদের সম্মিলিত সম্মতি ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাদের সাহস, ত্যাগ ও দৃঢ়তা জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি এনেছে।
আইনজীবী ত্রুশা গফে বলেন, বছরের পর বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে গিয়ে এ সমঝোতায় পৌঁছানো নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য একটি অসাধারণ অর্জন।
নিউইয়র্কের আর্চডায়োসিস (খ্রিস্টধর্মের প্রধান ধর্মপ্রদেশ) আওতায় শহরটির ব্রঙ্কস, ম্যানহাটন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ড এলাকা এবং শহরের উত্তরের সাতটি কাউন্টি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে প্রায় ৩০০টি গির্জা, ১৫০টির বেশি ধর্মীয় বিদ্যালয় এবং ২৫ লাখ ক্যাথলিক (খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে বড় শাখা বা সম্প্রদায়) রয়েছেন।
আর্চবিশপ হিকস তার ই-মেইলে বলেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য কিছুটা হলেও নিরাময় ও পুনর্মিলনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে গির্জা আবারও ধর্মীয় শিক্ষা প্রচার, অসুস্থদের সেবা, দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা, আশ্রয়প্রার্থীদের স্বাগত জানানো এবং শিশুদের শিক্ষাদানে পুরো মনোযোগ দিতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ২০১৯ সালে প্রণীত একটি আইন অনুযায়ী, শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা নির্যাতনকারী এবং তাদের রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৫৫ বছর বয়স পর্যন্ত মামলা করতে পারেন। আইনটি কার্যকর হওয়ার সময় যাদের বয়স ইতিমধ্যে ৫৫ বছর পেরিয়েছিল, তারাও নির্যাতনের সময় নির্বিশেষে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত মামলা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...