বিজ্ঞাপন
সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য হাসপাতালের চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ের লক্ষ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তবে অনলাইনে প্রকাশের পরপরই ওয়েবসাইটটি হ্যাকড হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় পুনরায় ই-টেন্ডার আহ্বান করলেও একই কায়দায় তা হ্যাক করা হয়। ফলে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই এতে অংশ নিতে পারছে না। বিগত অর্থবছরের জুন মাস পর্যন্ত কেনা চিকিৎসা সামগ্রীর মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
মাদারীপুরের ঠিকাদার বিল্লাল হোসেন ফকির জানান, ২৫ অক্টোবর দুপুরে ই-টেন্ডারে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করলেও ওয়েবসাইট হ্যাকড থাকায় তা সম্ভব হয়নি। সাইট ওপেন করলেই ‘ক্যানসেলড’ লেখা প্রদর্শিত হয়। বিগত দুই দফায় একই ঘটনা ঘটায় এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ বলেন, জেলা হাসপাতালে প্রায়ই বিভিন্ন অনিয়মের খবর পাওয়া যায়। পরপর দুই দফায় একই পদ্ধতিতে ওয়েবসাইট হ্যাক করার পেছনে কাদের স্বার্থ জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে হাসপাতালের সব কেনাকাটার টেন্ডার সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন তিনি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অখিল সরকার বলেন, ‘ইতোমধ্যে দুই দফায় টেন্ডার আহ্বান করা হলেও কারিগরি জটিলতার কারণে তা আটকে গেছে। এতে চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধ ক্রয়ের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এই অবস্থার দ্রুত সমাধান না হলে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না এবং দুর্ভোগ আরও বাড়বে।’
এ বিষয়ে মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. খলিলুজ্জামান জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে নিয়মিত সিভিল সার্জন ডা. শরীফুল আবেদীন কমল গত ১৫ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটিতে থাকায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে, দুই দফায় হাসপাতালটির টেন্ডার হ্যাক হওয়ার ঘটনা ঘটলেও সিভিল সার্জন ডা. শরীফুল আবেদীন কমল কোনো ধরনের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে ১৫ দিনের ছুটিতে চলে যাওয়ায় স্থানীয় মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...